মেক্সিকান সুন্দরীর হলেন মিস ইউনিভার্স
ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ১০:০১ অপরাহ্ণ
‘মিস ইউনিভার্স ২০২৫’ বিজয়ী হয়েছেন মেক্সিকোর ফাতিমা বোস। শুক্রবার সকালে থাইল্যান্ডের ননথাবুরির পাক ক্রেতের ইমপ্যাক্ট চ্যালেঞ্জার হলে গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়। ফাতিমাকে বিজয়ীর মুকুট পরিয়ে দেন গত বছরের বিজয়ী ডেনমার্কের ভিক্টোরিয়া কিয়ের থিলভিগ। মিস ইউনিভার্সের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রামে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
২৫ বছর বয়সি ফাতিমাকে মুকুট পরানোর মুহূর্তের ছবি পোস্ট করে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ লেখেন, ‘নতুন মিস ইউনিভার্সকে অভিনন্দন। আজ জন্ম নিলো নতুন এক নক্ষত্র। তার সৌন্দর্য, শক্তি এবং দীপ্তিমান ব্যক্তিত্ব সারা বিশ্বের হৃদয়কে জয় করেছে। তাকে নতুন রানি হিসেবে স্বাগত জানাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তার নেতৃত্বে মহাবিশ্ব আরো একটু উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।’
মিস ইউনিভার্সের ৭৪ তম আসরে প্রথম রানারআপ নির্বাচিত হয়েছেন থাইল্যান্ডের বীণা প্রবিনার সিং। দ্বিতীয় রানারআপ নির্বাচিত হয়েছেন ভেনেজুয়েলার স্টেফানি অ্যাবাসলি, তৃতীয় ও চতুর্থ রানারআপ যথাক্রমে নির্বাচিত হয়েছেন-ফিলিপাইনের মা আতিসা মানালো, আইভরি কোস্টের অলিভিয়া ইয়াচি।
থাইল্যান্ডভিত্তিক গণমাধ্যম দ্য ন্যাশন জানিয়েছে, সেরা পাঁচ প্রতিযোগীকে চূড়ান্ত আসরের একটি বিভাগে প্রত্যেককে দুটো করে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। বিজয়ী ফাতিমার কাছে প্রথমে প্রশ্ন রাখা হয়, ২০২৫ সালে নারীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী এবং মিস ইউনিভার্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আপনি কীভাবে নারীদের জন্য নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তুলবেন? এ প্রশ্নের উত্তরে ফাতিমা বলেন, ‘পরিবর্তন আনতে নারীদের সাহস করে কথা বলতে হবে। কারণ সাহসী নারীরা ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করে চলেছেন। একজন নারী ও মিস ইউনিভার্স হিসেবে অন্যদের সাহায্য করতে আমি আমার কণ্ঠ ব্যবহার করব।’
আপনি যদি মিস ইউনিভার্স নির্বাচিত হন, তাহলে কীভাবে এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সারা বিশ্বের মেয়েদের অনুপ্রাণিত ও ক্ষমতায়ন করবেন? এ বিষয়ে ফাতিমা বলেন, ‘মিস ইউনিভার্স হিসেবে আমি তাদের বলব, নিজের সত্যিকারের সত্তার শক্তিতে বিশ্বাস রাখো, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো। তোমার স্বপ্নগুলোর মূল্য আছে, তোমার হৃদয়েরও মূল্য আছে। কখনো কাউকে তোমার মূল্য নিয়ে সন্দেহ করতে দিও না। কারণ তুমি সবকিছুরই যোগ্য।’
চলতি বছরের ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতা কয়েকবার বিতর্কে জড়িয়েছে। গত ৪ নভেম্বর, ব্যাংককে আয়োজিত প্রি-পেজেন্ট অনুষ্ঠানে ফাতিমাকে ‘ডামি’ বলে মন্তব্য করেন থাই বিচারক নাওয়াত ইতসারাগ্রিসিল। এরপর মেক্সিকোর প্রতিনিধি ফাতিমা বোসসহ কয়েকজন প্রতিযোগী অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। কয়েক দিন আগে পাক্ষপাতের অভিযোগ তুলে জুরি বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেন দুই বিচারক। সর্বশেষ আলোচিত সেই ফাতিমা বিজয়ের মুকুট ছিনিয়ে নিলেন।
কে এই ফাতিমা বশ : মেক্সিকোর তাবাস্কো অঙ্গরাজ্যের সান্তিয়াগো দে তেয়াপায় জন্ম ফাতিমার। তিনি মেক্সিকোতে ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। ইতালির মিলান ও যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্টেও থেকেছেন কিছুদিন।
নিজের দুর্বলতাকেই তিনি শক্তিতে পরিণত করেছেন। স্কুলজীবনে ডিসলেক্সিয়া ও এডিএইচডির কারণে বুলিংয়ের শিকার হওয়ার কথা তিনি খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেছেন। ২০১৮ সালে তাবাস্কোতে ‘ফ্লোর ডি ওরো’ খেতাব জয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার পথচলা। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ইতিহাস গড়েন তাবাস্কো থেকে প্রথম নারী হিসেবে ‘মিস ইউনিভার্স মেক্সিকো’ খেতাব জিতে।
এই জয়ের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তোলেন ফাতিমা-ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ লাখ ৯০ হাজারের বেশি; আর টিকটকে ৬ লাখ ৯০ হাজার।
উল্লেখ্য, মিস ইউনিভার্সের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন মডেল-অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা। পিপলস চয়েজে ধারাবাহিক সাফল্যে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটিংয়ে ওঠানামায় হেরে গেলেন তিনি।
তানজিয়া জামান মিথিলা মিস ইউনিভার্সের প্রতিযোগিতাটির মূল আসরে অংশ নিতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশে উড়াল দেন ২ নভেম্বর। মিস ইউনিভার্স ক্যাম্পে দুই সপ্তাহ কাটিয়েছেন তিনি। এই দুই সপ্তাহে শিখেছেন সময় ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা এবং নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরার কৌশল।
মিথিলা শুরুতে ছিলেন র্যাম্প মডেল। ২০১৯ সালে ভারতীয় পরিচালক হায়দার খানের ‘রোহিঙ্গা’ সিনেমা দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক। একই বছরে ‘ফেস অব বাংলাদেশ’ এবং ‘ফেস অব এশিয়া’-এ মুকুট জেতেন। পরে ২০২০ সালে নির্বাচিত হন ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’।
মিথিলা বলেন, ‘২০২০ সালে মিস ইউনিভার্সের জন্য প্রস্তুতি ও জয়টা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ওই সময় অনেকে গালি দিয়েছেন। কেউ ভাবত, আমি কিছু করতে পারব না। মন খারাপ হয়েছিল, তবে কাউকে সেই কষ্ট বুঝতে দিইনি।





