১৪ই জানুয়ারি থেকে মৌলভীবাজারে হোটেল শ্রমিকদের কর্মবিরতি
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত শ্রমিকদের এক সভায় হোটেল সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন এবং ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিতে ১৪ই জানুয়ারি পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বুধবার রাতে শহরের চৌমুহনাস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে হোটেল শ্রমিকনেতা তারেশ চন্দ্র দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মৌলভীবাজার ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার হোটেল শ্রমিক নেতারা অংশগ্রহণ করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন- জুড়ী উপজেলার হোটেল শ্রমিকনেতা আব্দুল করিম ও মো. বাপ্পি মিয়া, কুলাউড়া উপজেলার হোটেল শ্রমিকনেতা আবুল কালাম, নুরুল ইসলাম, বাহ্মণাজার অঞ্চলের প্রতিনিধি পবিত্র বিশ্বাস, সদর উপজেলার প্রতিনিধি মো. শাহিন মিয়া, আব্দুল আহাদ, মো. জামাল মিয়া, রুহুল আমিন রোহিত, খোকন মিয়া প্রমুখ।
সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস ও রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সোহেল মিয়া। এ সময় বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশের অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের মতোই হোটেল ও রেস্তরাঁ শ্রমিকরা এক দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। খেয়ে না খেয়ে, অভাব-অনটন ও দুঃখ-কষ্টে তাদের জীবন অতিবাহিত হচ্ছে। হোটেল মালিকরা প্রতিনিয়ত তাদের খাদ্য আইটেমের দাম বাড়ালেও শ্রমিকদের নামমাত্র মজুরি প্রদান করছেন।
চাল, ডাল, তেল, চিনি, শাক-সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া, গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির কারণে জনজীবন দিশাহারা। এমতাবস্থায় দীর্ঘ ৮ বছরের বেশি সময় পর গত ৫ই মে হোটেল-রেস্তরাঁ শিল্প সেক্টরে সরকারের নিম্নতম মজুরি হার ঘোষণা করে যে গেজেট প্রকাশ করেন, তা দিয়ে বর্তমান বাজারদরে ৬ সদস্যের একটি পরিবারের ভরণপোষণ করা অসম্ভব। কিন্তু তারপরও সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি সর্বস্তরে কার্যকর করা হয়নি। শ্রম আইন অনুযায়ী, যে মাসে গেজেট ঘোষণা হয় সেই মাস থেকেই ঘোষিত মজুরি কার্যকর করার কথা। অথচ আট মাসের বেশি অতিবাহিত হয়ে গেলেও হোটেল ও রেস্তরাঁ প্রতিষ্ঠানসমূহে ঘোষিত গেজেট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।
তারা বলেন, হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকদের শ্রম আইনের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হয়। হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সুইটমিট শ্রমিকদের চাকরির নিশ্চয়তা ও জীবনের নিরাপত্তা নেই। বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ৫ ধারায় নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র, ৬ ধারায় সার্ভিস বই, ২(১০) ধারায় চাকরিচ্যুতিজনিত চার মাসের নোটিশ পে, প্রতি বছর চাকরির জন্য এক মাসের গ্রাচ্যুইটি প্রদান। ১০৩ ধারায় সপ্তাহে দেড়দিন সাপ্তাহিক ছুটি, ১০৮ ধারায় দৈনিক ৮ ঘণ্টা সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা কাজ। অতিরিক্ত কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি প্রদান, ১১৫ ধারায় বছরে ১০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি, ১১৬ ধারায় ১৪ দিন অসুস্থতার ছুটি, ১১৭ ধারায় প্রতি ১৮ দিন কাজের জন্য একদিন অর্জিত ছুটি। ১১৮ ধারায় ১১ দিন উৎসব ছুটি প্রদানের আইন থাকলেও শ্রমিকদের এই সকল আইনগত অধিকার হতে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাই ১৪ই জানুয়ারি দেশব্যাপী কর্মবিরতির ডাক দেয়া হয়।





