আজ রক্তে লেখা ইতিহাসের দিন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
আজ কোনো সাধারণ দিন নয়—আজ রক্তে লেখা ইতিহাসের দিন। আজ সেই দিন, যেদিন বাঙালি মাথা উঁচু করে বলেছিল— আমরা স্বাধীন।
লাখো শহীদের তাজা রক্তে ভিজে উঠেছিল এই লাল-সবুজের পতাকা। মা হারিয়েছে সন্তান, বোন হারিয়েছে সম্মান, বাবা হারিয়েছে বুকের ধন—তবু কেউ পিছিয়ে যায়নি। কারণ স্বাধীনতার মূল্য তারা জানত। ৯ মাসের অগ্নিপরীক্ষা শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পরাজয়ের কালো পতাকা নামিয়ে বিজয়ের পতাকা উড়েছিল এই বাংলার আকাশে।
আজ আমরা একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নাগরিক। এই স্বাধীনতা কোনো দান নয়—এটি অর্জিত। ত্যাগে, সংগ্রামে, রক্তে অর্জিত।
বিজয় দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ঐক্যই শক্তি, দেশই প্রথম, বাংলাদেশই শেষ পরিচয়।
এই দিনে আমরা শপথ নিই—শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। স্বাধীনতার চেতনাকে বুকের গভীরে ধারণ করব। ন্যায়, গণতন্ত্র ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলব।
১৯৭১ সালে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে এই দিনে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিল। আজকের দিনটিতে বিজয়োল্লাসে ভাসবে দেশ, আনন্দে উদ্বেলিত হবে গোটা জাতি। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত নানা আয়োজনে উদযাপিত হবে দিনটি।
বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং এরপর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এছাড়া, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, সর্বস্তরের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
দিবসটি উপলক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সুবিধাজনক সময়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া অনুষ্ঠান, ফুটবল ম্যাচ, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, কাবাডি ও হাডুডু খেলা আয়োজন করা হবে। রাষ্ট্রপতি বিকেলে বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানাবেন। এছাড়া, মহানগর, জেলা ও উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।





