হবিগঞ্জে কাঠের গুড়াভর্তি বস্তা ও বালির নিচ থেকে ভারতীয় মালামাল জব্দ
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
২৪ ঘন্টায় হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিক্স, জিরা, পেঁয়াজ, মদ ও গাড়ি জব্দ করেছে। কাভার্ড ভ্যানে কাঠের গুড়াভর্তি বস্তার আড়ালে লুকানো ও ট্রাকের বালির নিচ থেকে ওইসব মালামাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালের মূল্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো: তানজিলুর রহমান।
এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর বিশেষ টহল দল সীমান্ত থেকে আনুমানিক ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশ অভ্যন্তরে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর এলাকায় কৌশলগতভাবে অবস্থান নিয়ে আত্মগোপন করেছিল। এক পর্যায়ে ১টি কাভার্ড ভ্যান টহল দলের কাছাকাছি আসলে সংকেত দিয়ে থামানো হয়। কাভার্ড ভ্যানটি তল্লাশী করে গাড়ি ভর্তি কাঠের গুড়া দেখে সন্দেহ হয়। পরে সব বস্তা নামিয়ে কাভার্ড ভ্যানের বডির ভিতরে অভিনব কায়দায় তৈরি করা গোপন কুঠুরি থেকে লুকানো অবস্থায় ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার শাড়ি ও শাল জব্দ করা হয়।
একইভাবে আরেকটি বালুর ট্রাক তল্লাশী করে বালির নিচে লুকায়িত অবস্থায় ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার কসমেটিক্স ও জিরা জব্দ করা হয়।
অপরদিকে ব্যাটালিয়নের বিশেষ টহল ছাড়াও অধীনস্থ সিন্দুরখান ও বাল্লা বিওপির টহল দল সীমান্ত এলাকার চোরাচালান প্রবণ এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে ভারতীয় পেঁয়াজ ও ২৩ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ হয়।
হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো: তানজিলুর রহমান বলেন, “বিজিবি দেশের সীমান্ত পাহারা দেওয়ার পাশাপাশি নিরলসভাবে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযানগুলো আমাদের দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চোরাচালান নির্মূলে আমাদের কঠোর পদক্ষেপগুলো শুধু অপরাধীদেরই রুখে দিচ্ছে না, বরং দেশের অর্থনীতিকেও সুরক্ষিত করছে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিটি অভিযানই দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষায় এক অনন্য ভূমিকা পালন করে।”
ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক আরও বলেন, “জব্দকৃত পণ্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবিগঞ্জ কাস্টমস ও মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান আছে। একই সঙ্গে চোরাচালানে জড়িত চক্রকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।”





