শায়েস্তাগঞ্জে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে পাঁচ বছর ধরে বেতন-ভাতা গ্রহণ
শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার কার্যসহকারী মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে টানা পাঁচ বছর বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, অবৈধভাবে পুনর্বহাল হওয়া এবং ওই সময়ের বকেয়া বেতন-ভাতা উত্তোলনসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে।
শামীম আহমেদ নামের এক ব্যক্তির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার উম্মে সালিক রুমাইয়া শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসককে বিষয়টি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. নুরুল ইসলাম ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছর কোনো ধরনের ছুটি বা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া ১৫ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে চাকরিচ্যুতির বিধান থাকলেও তাঁর ক্ষেত্রে সে নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পর ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কোনো নিয়মনীতি অনুসরণ না করেই তিনি পুনরায় পৌরসভায় যোগদান করেন। পরে অবৈধ উপায়ে ওই পাঁচ বছরের বকেয়া বেতন-ভাতা উত্তোলন করেন।
নুরুল ইসলাম শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র এম এফ আহমেদ অলির খালাতো ভাই ও বোনজামাই হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ ও পুনর্বহাল লাভ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
অভিযোগকারীর দাবি, ২০১৬ সালে মেয়র পরিবর্তনের পর দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় নুরুল ইসলাম কর্মস্থল ত্যাগ করে একটি মুদি দোকান পরিচালনা শুরু করেন। পরে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পৌরসভা নির্বাচনে এম এফ আহমেদ অলি পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হলে তিনি আবারও নিয়ম বহির্ভূতভাবে কার্যসহকারী পদে যোগ দেন এবং পাঁচ বছরের বকেয়া বেতন-ভাতা আত্মসাৎ করেন।
এ ছাড়া দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার সুবাদে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঘুষ বাণিজ্য, অনিয়ম-দুর্নীতি এবং নাগরিক হয়রানি চালিয়ে আসার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী শামীম আহমেদ বলেন, তিনি একজন পৌর নাগরিক ও ভুক্তভোগী হিসেবে অভিযোগ করেছেন। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর।
এ বিষয়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।




