কমলগঞ্জে হুমকিতে ধলাই নদীর বাঁধ ও ব্রিজ
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর ভাঙন ঠেকাতে একদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করছে, অন্যদিকে ঠিক পাশেই ড্রেজার দিয়ে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। এতে সরকারের বিপুল অর্থে নির্মিত দুটি স্টিল ব্রিজ ও নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, রহিমপুর ইউনিয়নের মৃর্ত্তিঙ্গা চা–বাগান এলাকার স্টিল ব্রিজের সন্নিকটে ধলাই নদীর ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরক্ষা বাঁধে জিও ব্যাগ স্থাপনের কাজ করছে পাউবো। অথচ একই স্থানে নদীর মাঝখান থেকে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। গত প্রায় দুই মাস ধরে ব্রিজের তলদেশ ও প্রতিরক্ষা বাঁধের একেবারে কাছ থেকে বালু তোলায় ধর্মপুর ও রামচন্দ্রপুর এলাকার বাঁধ ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাঁরা জানান, ধর্মপুর ও রামচন্দ্রপুর অংশে দেড় কিলোমিটারের মধ্যেই ধলাই নদীর ওপর দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্টিল ব্রিজ রয়েছে। কয়েক বছর আগে মৃর্ত্তিঙ্গা ব্রিজের উত্তর পাশে প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছিল। বর্তমানে সেই ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ শুরু করলেও একই স্থানে বালু উত্তোলন চলায় সরকারি উদ্যোগ ব্যাহত হচ্ছে। মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা আইন–২০১০ অমান্য করে এভাবে বালু উত্তোলনকে স্থানীয়রা ‘আত্মঘাতী’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইজারাদার খোরশেদ আলম বলেন, তাঁর ইজারার নির্ধারিত স্থান ব্রিজের কাছাকাছি হলেও তিনি নিয়ম মেনেই বালু উত্তোলন করছেন।
তবে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ বলেন, “প্রতিরক্ষা বাঁধ বা ব্লকের পাশ থেকে কোনোভাবেই বালু উত্তোলন করা যাবে না।”
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “ব্রিজের সন্নিকট থেকে কোনো অবস্থাতেই বালু উত্তোলনের অনুমতি নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোসা. শাহীনা আক্তার জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউএনওকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নদীর বাঁধ ও জনপদ রক্ষায় অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা।





