ঢাকা–সিলেট রেলপথের হবিগঞ্জ অংশে ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ রেলক্রসিং বন্ধ
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১:৪১ অপরাহ্ণ
ঢাকা–সিলেট রেলপথের হবিগঞ্জ অংশে নিরাপত্তার অজুহাতে ৪৬টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে ২০টি বন্ধ করে দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এতে মাধবপুর থেকে বাহুবল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো এবং ট্রেনের গতি স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিংগুলো বন্ধ করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি ক্রসিং সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি ক্রসিংগুলোও বন্ধ করা হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক জায়গায় লোহার পাত ও খুঁটি বসিয়ে রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে দুই পাশের এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কৃষিপণ্য পরিবহন, স্কুল–কলেজে যাতায়াত এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম বড়চর এলাকার বাসিন্দারা জানান, ওই এলাকায় প্রবেশের একমাত্র রেলক্রসিংটি কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসসহ সব ধরনের যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
বড়চর গ্রামের বাসিন্দা আলী মিয়া বলেন, ‘৫০ বছরের বেশি সময় ধরে এই ক্রসিং ব্যবহার করে আসছি। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো গ্রামের মানুষ বিপাকে পড়েছে।’
মিরপুর এলাকার দিদার এলাহী বলেন, ‘কিছু ক্রসিংয়ে এলজিইডির রাস্তা পর্যন্ত রয়েছে। সেগুলো বন্ধ করায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।’
স্থানীয়রা বলছেন, অধিক জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে গেটম্যান নিয়োগ বা বিকল্প সড়ক ও ওভারপাস নির্মাণ না করে এভাবে হঠাৎ পথ বন্ধ করা অমানবিক। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়ার্কার সুপারভাইজার নজির আহমেদ বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দুর্ঘটনা রোধে অবৈধ ক্রসিংগুলো বন্ধ করা হচ্ছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে স্থানীয়রা নিজস্ব অর্থায়নে গেটম্যানসহ গেট পরিচালনা করতে চাইলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




