শ্রীমঙ্গলে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতি নারীর মৃত্যু
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চিকিৎসকের অবহেলায় জেসমিন আক্তার (৩৫) নামের এক গর্ভবতী নারীরসহ নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও লইয়ারকুল এলাকার মো. আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটে শ্রীমঙ্গল কলেজ রোডের দ্য নিউ লাইফ লাইন হসপিটালে। নিহতের পরিবার জানায়, গত ২১ ডিসেম্বর (রোববার) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে জেসমিন আক্তারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ওই হসপিটালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তখন আশ্বস্ত করে জানায়, তারা এরকম বহু সিজার অপারেশন করেছে এবং এখানে অভিজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন, কোনো সমস্যা হবে না।
পরিবারের অভিযোগ, ভর্তি ও চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় অবহেলা এবং সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণেই জেসমিন আক্তারের মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক অর্পিতা রায় জানান, হসপিটালে কী ধরনের রোগী ভর্তি ছিল তা তিনি নিজে জানেন না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি ওটিতে ছিলাম। হঠাৎ শুনি একজন রোগী মারা গেছে। রোগী সম্পর্কে বিস্তারিত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে।”
অন্যদিকে, দ্যা নিউ লাইফ লাইন হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন দৈনিক যায়যায়দিনকে বলেন, প্রসূতি রোগী জেসমিন আক্তার রোববার রাতে সিজারের জন্য হসপিটালে ভর্তি হন। পরদিন সকালে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার পর দেখা যায়, পেটের ভেতরে শিশুর হার্টবিট নেই এবং নড়াচড়া বন্ধ। এতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, গর্ভের শিশুটি আগেই মারা গেছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি রোগীর পরিবারকে জানানো হয় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মৃত শিশুর ক্ষেত্রে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হবে। এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের প্রসূতি ও গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. রাসমিন আক্তার পলির সঙ্গে ফোনে পরামর্শ করা হলে তিনিও নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করার পরামর্শ দেন।
ডা. মামুনের ভাষ্য অনুযায়ী, নরমাল ডেলিভারির প্রস্তুতির সময় হঠাৎ রোগীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। পরে দেখা যায় রোগীর পালস ও প্রেসার পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, মৃত শিশুর কারণে ডিআইসি ( Disseminated Intravascular Coagulation )-এর মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে এবং এটি একটি “এক্সিডেন্ট” হিসেবেও ঘটতে পারে।
এদিকে নিহতের স্বামী আনোয়ার হোসেন মোবাইল ফোনে দৈনিক যায়যায়দিনকে বলেন, স্ত্রীর মৃত্যুর শোকে তিনি অসুস্থ। তিনি জানান, এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি, তবে ২৪ ডিসেম্বর থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন।
শ্রীমঙ্গল থানার ডিউটি অফিসার এসআই অলক বিহারি বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সজিব জানান, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, তবে অভিযোগ না থাকায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়নি।
শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।




