চুনারুঘাটে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বেপরোয়া বনদস্যুরা
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রেমা–কালেঙ্গা অভয়ারণ্যে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে মূল্যবান গাছ পাচার। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা কয়েকটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে বন উজাড় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বনাঞ্চল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, বছরের পর বছর ধরে চলা অবৈধ পাচারের কারণে বনের গভীর অংশেও এখন বড় আকৃতির মূল্যবান গাছ খুব একটা দেখা যায় না। সম্প্রতি বনদস্যুরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নিয়মিত টহলের সময় বন কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
রেমা–কালেঙ্গায় গাছ পাচারের অন্যতম বড় একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন চুনারুঘাট উপজেলার আমতলা গ্রামের সুমন মিয়া (২৯) বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। তার বিরুদ্ধে গাছ পাচারের পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্র আইনে অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে।
এদিকে বনরক্ষীদের সঙ্গে সশস্ত্র পাচারকারীদের গুলিবিনিময়ের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বন বিভাগ বলছে, সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের সদস্যদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় বনরক্ষীদের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।
গত ১১ ডিসেম্বর গভীর রাতে কালেঙ্গা বিটের নিশ্চিন্তপুর পাহাড়ে সেগুন গাছ কাটার সময় বনরক্ষীরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গুলিবিনিময় হয়। বন বিভাগের তথ্যমতে, বনরক্ষীরা ১৪ রাউন্ড এবং পাচারকারীরা ২০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। প্রায় ৫০–৬০ জনের সশস্ত্র চক্রের মুখে একপর্যায়ে বনরক্ষীদের পিছু হটতে হয়। পরে খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়।
সহকারী বন সংরক্ষক জয়নাল আবেদীন বলেন, অস্ত্রধারী অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা গেলে গাছ পাচার অনেকাংশে কমে যাবে। তিনি বলেন, নিয়মিত টহলের কারণে পাচারকারীরা প্রায়ই বন কর্মকর্তাদের হুমকি দেন। এতে সব সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, বনদস্যুদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বনরক্ষীদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় ইতিমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে।




