জামালগঞ্জে বায়োগ্যাসে ২০ পরিবারের জীবনে স্বস্তি
জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:১১ অপরাহ্ণ
একসময় মাটির চুলায় লাকড়ি ও গোবরের ধোঁয়ায় রান্না করতে গিয়ে চোখ জ্বালা ও শ্বাসকষ্টে ভুগতেন জামালগঞ্জ উপজেলার অনেক গৃহিণী। বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের ফলে সেই চিত্র এখন বদলে গেছে। উপজেলার অন্তত ২০টি পরিবার এখন বায়োগ্যাসের সুবিধায় ধোঁয়াবিহীন ও সাশ্রয়ীভাবে রান্না করতে পারছে।
উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘বায়োগ্যাস ইমপ্যাক্ট’ প্রকল্পের আওতায় খামারি ও কৃষকদের মধ্যে এই প্রযুক্তি ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে একদিকে জ্বালানি সংকট কমছে, অন্যদিকে সাশ্রয় হচ্ছে রান্নার খরচ।
ভীমখালী ইউনিয়নের বড় মাহমুদপুর গ্রামের আফিয়া বেগম (৩৫) জানান, বিয়ের পর দীর্ঘ ১৫ বছর তাকে মাটির চুলায় রান্না করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “ধোঁয়ার কারণে প্রায়ই চোখে পানি আসত, শ্বাস নিতে কষ্ট হতো। এখন বায়োগ্যাস থাকায় খুব সহজেই রান্না করতে পারছি। আমাদের ১৫ সদস্যের পরিবারে আগে মাসে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে প্রায় ৩ হাজার টাকা খরচ হতো, এখন সেই খরচ নেই।”
সরেজমিনে বড় মাহমুদপুর, তেলিয়া শাহাপুর ও সাচনা গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, গরুর খামার থেকে নালার মাধ্যমে গোবর বায়োগ্যাস কূপে নেওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে উৎপাদিত গ্যাস সরাসরি চুলায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
একই গ্রামের জমিরুল ইসলাম জানান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে এবং নিজের আরও ২০ হাজার টাকা যোগ করে তিনি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করেন। উৎপাদিত গ্যাস ব্যবহারের পাশাপাশি অবশিষ্ট গোবর থেকে তৈরি জৈব ও কেঁচো সার বিক্রি করে তিনি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করছেন। তিনি বলেন, “একবার প্ল্যান্ট বসাতে পারলে প্রায় ৪০ বছর জ্বালানি নিয়ে ভাবতে হবে না।”
সাচনা গ্রামের কাকলী আক্তার বলেন, ভাইয়ের গরুর খামারের গোবর দিয়ে প্ল্যান্ট বসিয়ে নিজেরা ব্যবহার করার পাশাপাশি আত্মীয়দেরও সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতি মাসে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হচ্ছে।
উপজেলা যুব উন্নয়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে সাতটি বায়োগ্যাস ইমপ্যাক্ট প্রকল্প চালু রয়েছে। বাড়িতে অন্তত তিনটি গরু থাকলে ১০০ সিএফটি ক্ষমতার একটি প্ল্যান্ট বসিয়ে দুটি চুলা চালানো সম্ভব।
উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ মো. আজগর আলী বলেন, “পরিবেশবান্ধব এই প্রকল্পের ফলে জ্বালানি কাঠের ওপর নির্ভরতা কমছে। এ উপজেলায় ১০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং সাতটি পরিবারকে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জামালগঞ্জকে ‘বায়োগ্যাস ভিলেজ’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।”
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুশফিকীন নূর বলেন, “এ উপজেলায় পাইপলাইনের গ্যাস না থাকায় বায়োগ্যাস প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে মানুষ যেমন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে, তেমনি বিষমুক্ত জৈব সার ব্যবহারের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।”




