জেঁকে বসেছে শীত, সিলেটে শপিংমলগুলোতে গরম কাপড় বিক্রির ধুম
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
সিলেটজুড়ে জেঁকে বসেছে শীত। কনকনে ঠান্ডা বাতাস আর ঘন কুয়াশা স্বাভাবিক জনজীবনেও প্রভাব ফেলেছে। আগামী জানুয়ারি মাসে শীতের এ প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। যতই সময় বাড়ছে শীতের তীব্রতাও বাড়ছে। এমন অবস্থায় শীত নিবারণে সিলেটে চাহিদা বেড়েছে গরম কাপড়ের। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফুটপাত, বিপণী বিতান ও শপিং মলে বেচাকেনা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের শীতের কাপড়।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকালে নগরীর বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, রিকাবীবাজার এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সিলেট নগরীর বন্দরবাজারের হাসান মার্কেট, মধুবন মার্কেট, জিন্দাবাজারের শুকরিয়া মার্কেট, লন্ডনী ম্যানশনসহ বিভিন্ন মার্কেটে শীতের কাপড়ের ব্যাপক সমাহার রয়েছে।
চাহিদা অনুযায়ী পসরা সাজিয়েছেন পোশাকের। এরমধ্যে জ্যাকেট, সোয়েটার, হুডি, ব্লেজার, উলের তৈরি শাল, কানটুপি, হাত-পায়ের মোজা রয়েছে।
বেশ কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সপ্তাহ থেকে হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন হওয়ার কারণে তারা বিপাকে পড়েছেন। তাই নগরীর অভিজাত মার্কেট থেকে শুরু করে ফুটপাত সব জায়গায় বেড়েছে শীতের কাপড়ের কদর। আর অলিগলিতে ভ্যানে করে গরম কাপড় বিক্রির দৃশ্য চোখে পড়ে।
নগরীর জিন্দাবাজার এলাকার ব্লু ওয়াটার শপিং সিটির ব্যবসায়ী জামাল আহমদ বলেন, সিলেটের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে একটা আগ্রহ রয়েছে প্রতি তারা নতুন কাপড় কিনতে চায়। আমরা তাদের পছন্দের কথা মাথায় রেখেই শীতের পোশাক সংগ্রহ করে থাকি। এবছর বিক্রি খুবই ভালো হচ্ছে।
বন্দরবাজার এলাকার হাসান মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, বাড়ির ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্কদের জন্য শাল, মাফলার, হাত-পায়ের মোজার ক্রেতার পরিমাণ বেশি। বাচ্চাদের পোশাক ও গুণগত মান ও বয়সভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ফুটপাতে ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে হরেক রকমের গরম পোশাক। যার মধ্যে শিশুদের জিন্সের ফ্রক, স্কাট, উলের পোশাক, বেবি কিপার, রেকসিনের জ্যাকেট। ছেলেদেরও পোশাকের মধ্যে হুডি, ফুল হাতা টি-শার্ট, শীতের টুপি, জ্যাকেট ব্লেজার। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন মার্কেটে এসেছে বিভিন্ন ধরনের কম্বল।
রিকাবীবাজার এলাকার ক্রেতা আলী আকবর বলেন, এখন বেশী শীত আসায় গরম কাপড়ের দাম বেড়েছে।
লামাবাজার আলী ফ্যাশনের বিক্রেতা মনোয়ার জাহান বলেন, গরম কাপড়ের বিক্রি শুরু হয়েছে। এখন দাম একটু বেশী, শীত বাড়লে কাপড়ের দাম আরও বাড়বে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা ছিল। কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা দেখা গেছে। ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় সকালের দিকে হালকা ও মাঝারি ধরনের কুয়াশা দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মিললেও দুপুরের পরই তা আবার আড়াল হয়ে যায়। এদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস যশোরে। আর সিলেটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।




