পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করলেন বানিয়াচংয়ের মাহমুদুল হাসান কিবরিয়া
বানিয়াচং প্রতিনিধি:
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কৃতী সন্তান মাহমুদুল হাসান কিবরিয়া ইন্দোনেশিয়ার স্বনামধন্য Muhammadiyah University of Surakarta থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পিএইচডি ডিগ্রি অনুমোদন প্রদান করা হয়।
তাঁর এ গৌরবময় অর্জনে পরিবার-পরিজন, শিক্ষকসমাজ, শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি বিরাজ করছে।
মাহমুদুল হাসান কিবরিয়া বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৪নং ইউনিয়নের অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপাশা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতা মো. নায়েব আলী ও মাতা মোছা. সেলিনা বেগম-এর সুযোগ্য সন্তান। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। পিতা-মাতার আদর্শিক শিক্ষা, নৈতিক অনুশাসন ও নিরন্তর অনুপ্রেরণায় বেড়ে ওঠা মাহমুদুল হাসান কিবরিয়া শৈশব থেকেই জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও নৈতিক শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই আগ্রহই তাঁকে উচ্চতর গবেষণার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নেয়।
পিএইচডি পর্যায়ে তাঁর গবেষণা অভিসন্দর্ভের শিরোনাম ছিল—
“The Integration of Islamic Moral Values and Kohlberg’s Theory of Moral Development in Formal Education in Bangladesh”
(বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় ইসলামী নৈতিক মূল্যবোধ এবং কোলবার্গের নৈতিক উন্নয়ন তত্ত্বের সংযুক্তিকরণ)।
গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামী নৈতিক মূল্যবোধ ও পাশ্চাত্য মনোবিজ্ঞানী লরেন্স কোলবার্গের নৈতিক উন্নয়ন তত্ত্বের মধ্যে একটি কার্যকর সমন্বয় স্থাপন করে তা বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োগের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা। গবেষণায় উঠে এসেছে— এই দুই ধারার সমন্বিত প্রয়োগ শিক্ষার্থীদের নৈতিক মান, মূল্যবোধ ও চরিত্র গঠনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে ধর্মীয় মূল্যবোধ যেখানে সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, এমন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ গবেষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
নিজের এ অর্জন সম্পর্কে মাহমুদুল হাসান কিবরিয়া বলেন,“এই সাফল্য আমার একার নয়। আমার পরিবার, সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সমর্থকদের দোয়া ও ভালোবাসাই আমাকে এই পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে।”
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, তাঁর গবেষণার ফলাফল বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা বিষয়ক চলমান আলোচনা ও গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং ইসলামী নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে আধুনিক তাত্ত্বিক কাঠামোর সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিক উন্নয়ন ও চরিত্র গঠন আরও সুদৃঢ় হবে।
উল্লেখ্য, মাহমুদুল হাসান কিবরিয়ার শিক্ষাজীবন শুরু হয় কাওমী মাদরাসা শিক্ষাধারায়। দাওরা হাদীস সম্পন্ন করার পর তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে বিএ (ফাজিল) এবং ইসলামিক এরাবিক ইউনিভার্সিটি (ঢাকা)-এর অধীনে তাফসীর বিভাগে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার এই সমন্বিত ধারাই তাঁকে আন্তর্জাতিক মানের একজন গবেষক হিসেবে গড়ে তুলেছে।
গবেষণা ও প্রকাশনায়ও তাঁর রয়েছে উল্লেখযোগ্য অবদান। ইতোমধ্যে তাঁর রচিত ৩টি বই এবং ৫৯টি গবেষণা প্রবন্ধ বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে, যা তাঁকে গবেষণা অঙ্গনে একটি সুপরিচিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এলাকাবাসীর মতে, মাহমুদুল হাসান কিবরিয়ার এই আন্তর্জাতিক সাফল্য বানিয়াচং উপজেলার জন্য যেমন গর্বের, তেমনি বাংলাদেশের শিক্ষা ও গবেষণা অঙ্গনের জন্যও এক অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।




