জৈন্তাপুরে শীতার্ত ভবঘুরে মানুষের পাশে উপজেলা প্রশাসন
জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি:
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
প্রবল শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া পরিবার ও পরিচয়হীন শীতার্ত ভবঘুরে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাতভর ঘুরে এসব মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি মধ্যরাত থেকে জৈন্তাপুর উপজেলায় হঠাৎ করে শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকে। ভোর থেকে কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল। দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার পর দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়ে সন্ধ্যার পর তা আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি জৈন্তাপুর উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ০৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তরবঙ্গের কুয়াশা বেল্ট ‘কনকন’-এর বর্ধিত অংশ সিলেট বিভাগ অতিক্রম করায় আগামী কয়েক দিন শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চলমান শৈত্যপ্রবাহে নিম্ন আয়ের মানুষজন চরম ভোগান্তিতে পড়লেও সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন বাজার ও জনসমাগম এলাকায় অবস্থান করা মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে মানুষজন। আশপাশের হোটেল–রেস্তোরাঁ থেকে পাওয়া খাবারের ওপর নির্ভর করলেও শীত নিবারণের জন্য তাঁদের নেই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র।
এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক আটটার দিকে কুয়াশাচ্ছন্ন তীব্র শীতে উপজেলার দরবস্ত বাজারে শীতের কম্বল নিয়ে হাজির হন জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। তিনি দরবস্ত বাজারের যাত্রী ছাউনি, সাপ্তাহিক হাটের বিভিন্ন শেড এবং পরিত্যক্ত ঘরের বারান্দায় আশ্রয় নেওয়া নারী-পুরুষ ভবঘুরে মানুষের গায়ে নিজ হাতে কম্বল জড়িয়ে দেন।
পরে উপজেলা সদরের স্টেশন বাজার এলাকায় গিয়ে সেখানকার ভবঘুরে মানুষদের খুঁজে বের করে কম্বল বিতরণ করা হয়। সবশেষে ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত বাংলা বাজার এলাকায় আশ্রয় নেওয়া শীতার্ত ভবঘুরে মানুষদের মাঝেও কম্বল বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রানী দেব, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন কান্তি রায়সহ উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আজ তিনটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকায় অবস্থান করা বেশির ভাগ মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে মানুষকে শীতের কম্বল দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও এই কার্যক্রম চালানো হবে।’ তিনি শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।





