সুনামগঞ্জে সাআইদৌলা এন্টারপ্রাইজে শ্রমিক অসন্তোষ, কাজে যোগ দিতে গিয়ে গেটে বাধা
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২:৫২ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের ওয়েজখালীতে অবস্থিত সাআইদৌলা (প্রাঃ) এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডে শ্রমিক অসন্তোষ ও কর্মবিরতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দেওয়া আল্টিমেটাম অনুযায়ী কাজে যোগ দিতে এসে শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে কারখানার মূল ফটকে বাধার মুখে পড়েন কয়েকশ শ্রমিক।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে একাধিক শ্রমিক বিনা অনুমতিতে কাজে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ প্রেক্ষিতে গত ১ জানুয়ারি মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা ঝিনুকের স্বাক্ষরে একটি চূড়ান্ত নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আগামী ৪ জানুয়ারি সকাল ৯টার মধ্যে কাজে যোগ না দিলে অনুপস্থিত শ্রমিকদের চাকরি পরিত্যাগ হিসেবে গণ্য করে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোটিশের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই শনিবার দুপুরে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কাজে যোগ দিতে কারখানার গেটে উপস্থিত হন। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, গেটে দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরীরা তাদের কারখানার ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি।
আন্দোলনরত নারী শ্রমিকরা জানান, নোটিশ অনুযায়ী তারা কাজে যোগ দিতে এসেছেন, কিন্তু গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তাদের দাবি, পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য তারা কাজ করতে চান এবং শ্রম আইন অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত চান।
শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, কারখানাটিতে শ্রম আইন যথাযথভাবে মানা হয় না। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি প্রদান, সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির নিশ্চয়তা, পাঁচ মিনিট দেরির জন্য বেতন কর্তনের নিয়ম বাতিল, অসুস্থতা ও নারীদের শারীরিক সমস্যাজনিত ছুটির অধিকার এবং শ্রমিকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের অশোভন আচরণ বন্ধ করা।
এ বিষয়ে সাআইদৌলা এন্টারপ্রাইজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ১ জানুয়ারির নোটিশে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, তারা শান্তিপূর্ণ সমাধানে আগ্রহী এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করছে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কারখানার মূল ফটকের সামনে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক অবস্থান করছেন। কর্মসংস্থান রক্ষা এবং শ্রম আইন অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।




