মাধবপুরে বিদ্যালয়ের মালামাল বিক্রির অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো আসবাব ও বই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের আহম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল মিয়া বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি কিংবা উপজেলা শিক্ষা অফিসের অনুমতি ছাড়াই এসব মালামাল বিক্রি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে বিদ্যালয়ের ব্যবহৃত ৪০টি লোহার বেঞ্চ, ৪০টি কাঠের বেঞ্চ, চারটি লোহার দরজা, চারটি কাঠের দরজা এবং প্রায় ১৭৪ কেজি পুরোনো বই স্থানীয় একটি ভাঙারি দোকানে বিক্রি করা হয়।
ভাঙারি ব্যবসায়ী মুসলিম মিয়া বলেন, প্রধান শিক্ষক তাঁর মাধ্যমে বিদ্যালয়ের দপ্তরি রনিকে পাঠিয়ে তাঁকে স্কুলে ডেকে নেন। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে গড়ে প্রতি কেজি ৩৭ টাকা দরে মালামালগুলো কেনা হয়। এর বেশি কিছু তিনি জানেন না বলে জানান।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক হেলাল মিয়ার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে বিদ্যালয়ে এসে কথা বলতে বলেন।
মাধবপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম জাকিরুল হাসান বলেন, ‘এভাবে সরকারি মালামাল বিক্রির কোনো বিধান নেই। এটি স্পষ্টতই চুরির শামিল। অকেজো সরকারি মালামাল বিক্রির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি নির্দিষ্ট কমিটি রয়েছে। সেই কমিটির অনুমোদন ও টেন্ডার প্রক্রিয়ার বাইরে কিছু হলে তা আইনবহির্ভূত।’ তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




