শ্রীমঙ্গলে গত এক বছরে ৬৭ টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার লোকালয় থেকে গত এক বছরে মোট ৬৭টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, শ্রীমঙ্গল। বনাঞ্চলের পরিবেশ ধ্বংস ও খাদ্য সংকটের কারণে বন্যপ্রাণীরা বাধ্য হয়ে লোকালয়ে চলে আসছে এমন চিত্রই উঠে এসেছে এই পরিসংখ্যানে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন কুমার দেব সজল জানান, গত বছরের ১৮ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত প্রাণীর মধ্যে রয়েছে ২৩টি অজগর সাপ, ৯টি লজ্জাবতী বানর, ৬টি গন্ধগোকুল, ৪টি বনবিড়াল, ৪টি শঙ্খচিল, ৩টি বেতা জরা সাপ, ২টি দারাশ সাপ ও ২টি সবুজ কালি মনসা সাপ। এছাড়াও একটি করে উদ্ধার করা হয়েছে সবুজ বোরাল (পিট ভাইপার), ভোঁদড়, জংলি পেঁচা, উল্টা লেজি সিংহ বানর, শিয়াল, বেজি, লক্ষ্মীপেঁচা, নীলকণ্ঠ পাখি, পদ্মগোখরা সাপ, জুনিয়া সাপ, সোনা গুঁইসাপ, ঘরগিন্নী পাখি, ভুবনচিল ও সুন্দি কচ্ছপ।
স্বপন দেব সজল বলেন, “বনাঞ্চলে নির্বিচারে গাছপালা ও ঝোপঝাড় উজাড়ের ফলে বন্যপ্রাণীরা তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েছে। বনভূমিতে মানুষের অবাধ প্রবেশ, জঙ্গল কেটে ফসল চাষ, বসতবাড়ি স্থাপন এবং অপরিকল্পিত রিসোর্ট ও ভিলা নির্মাণ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।”
তিনি আরও জানান, স্থানীয় বাসিন্দা বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের কাছ থেকে লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতির খবর পেলে সেগুলো দ্রুত উদ্ধার করা হয়। আহত প্রাণীদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে সেগুলো আবার বনে অবমুক্ত করা হয়। বর্তমানে সেবা ফাউন্ডেশনের কাছে কোনো বন্যপ্রাণী সংরক্ষিত নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিচালক স্বপন দেব সজলের অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ প্রাণী বনের এক পাশের এলাকা থেকে পাওয়া গেলেও কমলগঞ্জ অংশে মানুষের সচেতনতা তুলনামূলকভাবে কম। সেখানে অনেক ক্ষেত্রে বন্যপ্রাণী হত্যা করা হচ্ছে। এমনকি বনের ভেতর ও আশপাশে বসবাসরত কিছু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্য এসব প্রাণী ধরে খেয়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, পাহাড়, বনাঞ্চল, হাওর ও চা-বাগানঘেরা শ্রীমঙ্গল উপজেলার সংলগ্ন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ বিস্তীর্ণ বনভূমিতে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী গোষ্ঠী অবৈধভাবে গাছ কাটা, বসতি স্থাপন, আনারস-লেবু-চা চাষ এবং রিসোর্ট ও ভিলা নির্মাণ করে আসছে। এতে বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ও প্রশাসনের একাংশের যোগসাজশের কারণে এসব অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ মানুষও নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছেন।
পরিবেশবিদরা বলছেন, দ্রুত বনভূমি রক্ষা ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।





