হবিগঞ্জে অবৈধভাবে চলছে ৮৯ ইটভাটা, নির্বিকার প্রশাসন
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
‘ইটভাটা তো ছোট জিনিস না যে নজরে আসবে না। প্রশাসন মানুষের চাপাচাপিতে বা বিশেষ উদ্দেশ্য থাকলে নিয়ম রক্ষার অভিযান চালায়। এক কথায় প্রশাসন ভাটাগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। বরং নিজেরাই তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।’ এভাবেই স্থানীয় ইটভাটা সম্পর্কে মন্তব্য করছিলেন হবিগঞ্জের মিরপুর এলাকার এক বাসিন্দা।
হবিগঞ্জে কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে চলছে ইটভাটাগুলো। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কোনো প্রকার আইন মানছেন না ভাটামালিকরা। তারা যেখানে পারছেন সেখানে ভাটা গড়ে তুলছেন। কৃষিজমি থেকে
শুরু করে বসতভিটা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সব জায়গায় গড়ে তোলা হচ্ছে ইটভাটা। তাই এখনই যদি তাদের নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তা হলে আগামীতে পরিবেশ ও প্রতিবেশ আরও হুমকির মুখে পড়বে। শুধু তাই নয়, এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে।
জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় মোট ৯০টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র একটি ইটভাটার রয়েছে বৈধ কাগজপত্র। বাকি ইটভাটাগুলোর নেই কোনো বৈধ কাগজপত্র। দিনের পর দিন অবৈধভাবে চলছে ভাটাগুলো। যদিও জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে গুটি কয়েক ভাটার মালিককে জরিমানার আওতায় এনেছে। তবে তা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, অবৈধভাবে ভাটা পরিচালনা করার কারণে পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতি হচ্ছে। হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রশাসনকে আরও কঠোরভাবে অভিযান চালানোসহ তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
হবিগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক হরিপদ চন্দ্র দাস বলেন, অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে বেশ কয়েকটি ভাটায় অভিযান চালিয়েছেন তারা; যা অব্যাহত থাকবে।




