মৌলভীবাজারে চোরাই মোটরসাইকেল ও যন্ত্রপাতিসহ গ্রেপ্তার ১
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ
মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) বিশেষ অভিযানে দুটি চোরাই মোটরসাইকেল, মোটরসাইকেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও চুরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামসহ মিল্টন সরকার (৪৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন।
গ্রেপ্তার মিল্টন সরকার নরসিংদী জেলার পশ্চিম কান্দাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত হারাধন সরকার ওরফে হারাধন সাহার ছেলে।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২ জানুয়ারি দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বরহাট এলাকার ‘রাজা কমপ্লেক্স’-এর একটি বাসার গ্যারেজ থেকে আজহারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা দায়েরের পর জেলা গোয়েন্দা শাখা তদন্ত শুরু করে।
পুলিশের তথ্যসূত্র, সিসিটিভি ফুটেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া বাগান এলাকা থেকে মিল্টন সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তিনি জানান, চোরাই মোটরসাইকেলটি সিলেট জেলার এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে। মোটরসাইকেল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সরকারবাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে আরও চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে—দুটি ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল, বিভিন্ন রঙের ছয়টি হেলমেট, পাঁচটি লুকিং গ্লাস, ২১টি চাবি, ১৫টি বিভিন্ন সাইজের তালা, আটটি ঢাল, একটি বড় রেঞ্জ, নয়টি স্ক্রু ড্রাইভার, একটি প্লায়ার্স, দুটি ওয়্যার কাটার, দুটি রেত এবং একটি রেইনবো স্প্রে পট।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মিল্টন সরকার একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং অন্যতম মূল হোতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে তা চোরাকারবারিদের কাছে বিক্রি করতেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ২৭টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, সদর সার্কেল অফিসার আবুল খয়ের, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি সুদীপ্ত ভট্টাচার্য।





