মাধবপুরে শিক্ষক বদলিতে ঘুষের অভিযোগ, তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক বদলিকে কেন্দ্র করে ঘুষবাণিজ্যের অভিযোগ সামনে এসেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম জাকিরুল হাসানের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে একজন সহকারী শিক্ষককে বিধিবহির্ভূতভাবে বিদ্যালয়ে বদলির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের জন্য ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ধর্মঘর ইউনিয়নের আহমদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও সহকারী শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমানকে সেখানে বদলি করা হয়েছে। তিনি পূর্বে আব্দুর রব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলি অনলাইনে হয়, কিন্তু অনলাইনের বদলি প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা লিখিত আদেশ ছাড়াই মৌখিক নির্দেশে বদলি দিয়েছেন। এতে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক বণ্টন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
মুস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করেছেন, “অনেক কিছু বলার থাকলেও বলা যায় না। টাকা দিয়েও এখন বিপদে আছি। আমরা চাই বিষয়টির ন্যায়সংগত সমাধান হোক।” আহমদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন জানান, শিক্ষক কীভাবে এখানে কর্মরত, তা তিনি নিশ্চিত নন। “মৌখিক নির্দেশে দায়িত্ব পালন করছে, অনলাইনে যোগদানের কোনো ডকুমেন্টস দিতে পারেনি। ৫০ হাজার টাকা ঘুষের কথা শুনেছি, তবে নিজে নিশ্চিত হতে পারছি না।”
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম জাকিরুল হাসান বলেন, “ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শিক্ষক ব্যক্তিগত কারণে এমন বক্তব্য দিতে পারেন। আমরা অনলাইন জটিলতা সংশোধনের প্রস্তাব পাঠিয়েছি।”
হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম জানিয়েছেন, “ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে।”
ঘটনার পর শিক্ষক সমাজ, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে।




