চুনারুঘাটের আলোচিত টিকটকার মুক্তা ও ইব্রাহিমের উপর এবার হত্যা মামলা
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
পবিত্র কোরআনের সুরা অবমাননার মামলার পর এবার হত্যা মামলার আসামি হলেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটনর ইয়াছিন মিয়ার পুত্র ইব্রাহিম মিয়া (৩০) এবং তার স্ত্রী মোছা. মুক্তা আক্তার ওরফে পাঙ্গাস মুক্তা (২৫)।
সুরা অবমাননার মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও বীরদর্পে প্রকাশ্যে টিকটক কনটেন্ট তৈরি করে বেড়ালেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের হাতে জীবন দিতে হলো গৃহবধূ ফাহিমা আক্তার। এ নিয়ে জেলাজুড়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে টিকটক ভিডিও তৈরির সময় স্বামী-স্ত্রী মিলে পবিত্র কোরআনের সুরা ফাতেহা অবমাননার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট সেলিম আহমেদ মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। অভিযুক্তরা হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। এরপরও পুলিশকে ‘ম্যানেজথ করে তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকটক তৈরি করছে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। এরই মধ্যে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে আরও ভয়াবহ অভিযোগ সামনে এসেছে। গৃহবধূ ফাহিমা আক্তার হত্যা মামলায় তাদের নাম এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি-২ আদালতে দায়ের করা মামলায় নিহতের পিতা মো. নুরুল হক অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি বিকালে চুনারুঘাট উপজেলার ইকরতলী গ্রামের মো. পণ্ডিত মিয়ার পুত্র মো. সুজন মিয়ার বসতঘরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত ফাহিমা আক্তার ছিলেন সুজন মিয়ার স্ত্রী।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সময় ১নং আসামি মো. সুজন মিয়া নিজ হাতে নিহতের গলায় থাকা ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করেন। তখন তার সহযোগী হিসেবে ২নং আসামি মোছা. মুক্তা আক্তার ওরফে পাঙ্গাস মুক্তা ডান হাত চেপে ধরেন, ৩নং আসামি ইয়াছিন মিয়ার পুত্র ইব্রাহিম মিয়া বাম হাত ধরে রাখেন, ৪নং আসামি মো. জিনুক মিয়া ডান পা ও ৫নং আসামি মো. শামিম মিয়া বাম পা চেপে ধরে রাখেন।
এ সময় ৬নং আসামি মো. নজরুল ইসলাম, ৭নং আসামি পণ্ডিত মিয়া এবং ৮নং আসামি সেলিনা বেগম বাড়ির উঠান ও ঘরের দরজার সামনে পাহারা দেন, যাতে কেউ বাধা দিতে না পারে। নিহতের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর উদ্দেশ্যে আসামিরা লাশ ঝুলিয়ে রাখে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
নালিশে আরও বলা হয়, টিকটক কনটেন্ট তৈরিতে বাধ্য করতে না পেরে এবং দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নিহতকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। হত্যাকাণ্ডের সময় নিহতের ৭ বছর বয়সী সন্তান জিহাদ মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং পুরো ঘটনা প্রত্যক্ষ করে। এ ঘটনায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৪৩, ৩২৩, ৩০২, ২০১, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে সুরা ফাতেহা অবমাননা ও হত্যা দুটি গুরুতর মামলার আসামি হয়েও অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে চলাফেরা ও টিকটক করা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, মামলাটি আসার সাথে সাথেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং ওয়ারেন্ট থাকলে অবশ্যই গ্রেফতার করা হবে।




