দোয়ারাবাজারে মাটিখেকো চক্রের বেপরোয়া তাণ্ডব, হুমকিতে কৃষিজমি ও পরিবেশ
দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় প্রভাবশালী একটি মাটিখেকো চক্রের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে হুমকির মুখে পড়েছে কৃষিজমি, পরিবেশ ও গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে মাটি কেটে বিক্রি করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় মানুষের মধ্যে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দোহালিয়া, লক্ষ্মীপুর, পান্ডারগাঁও, নরসিংপুর, দোয়ারাবাজার সদর, বোগলাবাজার, বাংলাবাজার ও সুরমা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। ফসলি জমি, রাস্তার পাশ, খাল-বিল ও জলাশয়সংলগ্ন এলাকা থেকে কাটা মাটি ট্রাক ও ট্রলারে করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিন-রাত নির্বিচারে ভারী যন্ত্রপাতি ও এস্কাভেটর (ভেকু) ব্যবহার করে মাটি কাটা হচ্ছে। চক্রটির সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকায় ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। অনেক এলাকায় রাস্তার গা ঘেঁষে মাটি কাটার ফলে গ্রামীণ সড়ক ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে করে যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিসকে একাধিকবার জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রশাসনের এই নীরবতায় মাটিখেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে মাটি কাটা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পরিবেশবিদরা বলছেন, ফসলি জমি ও জলাধার ধ্বংস হলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে, পাশাপাশি বন্যা ও ভাঙনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ বলেন, মাটি কেটে ফসলি জমি বিনষ্টের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। তিনি জানান, অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে ইতিমধ্যে কয়েকটি স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে এবং জরিমানাও করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
তবে স্থানীয়দের মতে, দু-একটি দায়সারা অভিযান বা নামমাত্র জরিমানা এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট দমনে যথেষ্ট নয়। কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় স্থায়ী ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।




