হবিগঞ্জ-৪ আসন: চা শ্রমিকদের ভরসা ধানের শীষে
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই দেশজুড়ে বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ ও আলোচনা। গ্রাম থেকে শহর, হাটবাজার থেকে চা বাগান সবখানেই চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। এর ব্যতিক্রম নয় হবিগঞ্জ-৪ আসনের অন্তর্গত মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলা। বিশেষ করে এই দুই উপজেলার ২৩টি চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যেও এবার নির্বাচন নিয়ে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মাধবপুর উপজেলায় রয়েছে ৫টি এবং চুনারুঘাট উপজেলায় রয়েছে ১৮টি চা বাগান। এসব বাগানে বসবাসরত হাজারো চা শ্রমিক আসন্ন নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচিত। ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার অভাব এই চিরাচরিত সংকটের মধ্য দিয়েই চলছে তাদের জীবন।
এবার নির্বাচনে কোন প্রার্থীকে ভোট দেবেন তা নিয়ে চা শ্রমিকদের মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা। দীর্ঘদিন ধরে চা বাগান অধ্যুষিত এলাকার একটি বড় অংশ আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এলেও, এবারের রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এবার দল নয়, ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
চা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সলের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং ধানের শীষ প্রতীকের দিকে ঝুঁকছেন। শ্রমিকদের মতে, সৈয়দ মোঃ ফয়সল একজন সর্বজনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। দল-মত, ধর্ম কিংবা জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে সবার সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। অতীতেও তিনি ও তার পরিবার চা শ্রমিকদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে তাদের অভিমত।
নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক নেতা খেলু নায়েক বলেন, “সৈয়দ মোঃ ফয়সল ও তাঁর পরিবার আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। আমাদের আপদে-বিপদে সব সময় সায়হাম পরিবারকে পাশে পেয়েছি। শুধু আশ্বাস নয়, তারা কাজ করে দেখিয়েছেন। সায়হাম শিল্প কারখানায় বহু চা শ্রমিক নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাই দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে এবার ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আগ্রহ আমাদের।”
সুরমা চা বাগানের শ্রমিক সুশীল কর্মকার বলেন, “চা বাগান এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম সংকট রয়েছে। আমরা আশা করছি সৈয়দ মোঃ ফয়সল নির্বাচিত হলে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন। তিনি একজন সৎ ও দানশীল মানুষ এই বিশ্বাস থেকেই আমরা তাঁকে সমর্থন করছি।”
লালচান চা বাগানের শ্রমিক নেতা ভারত মুন্ডা বলেন, “আমরা আদিবাসী মানুষ। আমাদের কথা বলার লোক খুব কম। সৈয়দ মোঃ ফয়সল আগে থেকেই আমাদের খোঁজখবর নেন। তিনি এমপি হলে চা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে সংসদে কথা বলবেন এই আশাতেই আমরা ধানের শীষে ঝুঁকছি।”
আমু চা বাগানের শ্রমিক শ্যামলী ভুমিজ বলেন, “বছরের পর বছর আমরা অবহেলিত। ঘরবাড়ি, রাস্তা, হাসপাতাল সবকিছুরই অভাব। কিন্তু সৈয়দ মোঃ ফয়সলকে আমরা কাছে পেয়েছি। তিনি আমাদের কথা শোনেন। তাই বিশ্বাস করি, তিনি নির্বাচিত হলে চা বাগান এলাকার উন্নয়ন হবে।”
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সল বলেন, “চা শ্রমিকরা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা অবহেলিত। আমি নির্বাচিত হলে চা বাগান এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, যোগাযোগ ও শ্রমিক কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব। মানুষ এবং মানুষের ভালোবাসাই আমার রাজনীতির মূল শক্তি।”




