দক্ষিণ সুরমায় মরা খাল খনন: কৃষিতে নতুন দিগন্ত
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মানুষের অন্যতম পেশা কৃষি। গবেষণা বলছে এ এলাকার মাটি বেশ উর্বর। সেকারণে স্থানীয় কৃষকদের মনোযোগ কৃষিতে। এখানে বছরব্যাপী ধান, গম, পাট, সরিষা, মসূরী, ভুট্টাসহ বিভিন্ন প্রকার ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে।
কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকর বেশির ভাগ প্রকৃতি সৃষ্টি খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষি জমিতে সেচ ও জলাবদ্ধতার কারনে নানা ভোগান্তিতে পড়ে হাজারো কৃষকসহ সাধারন মানুষ।
জলাবদ্ধতার কবল থেকে ফসল রক্ষা ও শুকনো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বিএডিসির অর্থায়নে, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সিলেট এর ব্যাবস্হাপনায় দক্ষিণ সুরমা উপজেলারশুরু হয় ৮ ইউনিয়নে ৮টি খাল খনন কর্মসূচি।
বিগত বছরের ডিসেম্বরে উপজেলার জালালপুরের আজমত পুরে খাল খনন কর্মসূচির উদ্ভোধন করেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম অনীক চৌধুরী।
চলতি বছরেই লালাবাজার, দাউদপুরসহ অন্যান্য খালের খনন সম্পন্ন করা হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। খননকৃত মৃত খালগুলোর এখন তার যৌবন ফিরে পেয়েছে। নাব্যতা হারানো মরাখাল খালগুলোর খননের ফলে খালের দুই পাড়ের প্রায় কয়েকশত হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় এসেছে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহের ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও সেচ সুবিধা সহজ হওয়ায় ফলে উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক পরিবারসহ লক্ষাধিক মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। ফলে এখন অধিক ফসলের স্বপ্ন দখেছে তারা।
এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষি প্রধান এই এলাকায় খালগুলো খননে পানির প্রবাহবৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার সব শ্রেণির মানুষের মানুষের মধ্যেই বিরাজ করছে এক ধরনের আনন্দ।
প্রবাহিত স্বচ্ছ পানিতে ছলছল শব্দ হচ্ছে। আর তাতেই আনন্দ তাদের। যেন তারা বহুদিন এই পানি প্রবাহ দেখেনি। তাই তারা নতুন স্বপ্ন বুনছে এই খালের পানিতে। বিশেষ করে খালের পারের মানুষের আনন্দ ছিলো একটু বেশি।
এলাকার কৃষকদের কৃষি কাজসহ পরিবারের নারীদের দৈনন্দিন কাজের ব্যবহারে সহজেই হাতের কাছে পানি চলে আসায় আনেক খুশি তারাও।
জালালপুরের কৃষক রবীন্দ্র নাথ জানান, পানির অভাবে ফসল উৎপাদন বিমুখ ছিলাম আমরা। খাল শুকনো থাকার জন্য দুর থেকে সেচ পাম্পের সাহায্যে পানি এনে চাষের জমি ভিজিয়ে বছরে এক ফসল চাষাবাদ করতাম। তাতে অনেক খরচ হতো। আবার সময়মতো পানিও পাওয়া যেতনা। এখন এই মরা খালটি খননের ফলে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পানির সমস্যা কেটে গেছে। এখন খালের পানি জমিতে ব্যবহার করে রবি শস্যসহ ইরি-বোরো ফসল চাষাবাদ করতে পারব। আশা করি এবার আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে।
একই এলাকার কৃষক নজব আলী বলেন, এক সময় এই এলাকার পাঁচটি গ্রামের মানুষ কৃষি কাজসহ সব ধরনের কাজেই এই খালের পানির উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন খনন না করার কারণে খালটি ভরাট হয়ে যায়। ফলে কৃষি কাজে যেমন পানির অভাব হতো, ঠিক বিপরীতে বর্ষাকালে জমিতে পানি জমাট বেধে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে করে মানুষের ভোগান্তির চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। এখন খালটি খননের ফলে এলাকার মানুষের কৃষি কাজসহ সবকাজেই সুবিধা হলো।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কৃষি অফিসার গৌতম পাল বলেন, ইতিমধ্যে দক্ষিণ সুরমার জালালপুরে ভবখালী-১ ও ভবখালী-২ এর মাধ্যমে ৮.১ কিঃমিঃ দৈর্ঘ্যের খাল খনন করা হয়েছে।
আগামী সপ্তাহে দাউদপুর ইউনিয়নে ও খাল খননের কাজ শুরু হবে। এ সব খাল খনন করার ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাতে জমিতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও চাহিদা পূরণ হবে।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম অনিক চৌধুরী বলেন, এসব খাল খননের ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার কমিয়ে ফসল উৎপাদনে ভু-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের ফলে ফসল উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা মজবুত হবে। দক্ষিণ সুরমার সব ধরনের ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা হবে।





