কালভৈরব মেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগ, বঞ্চিত পুরোহিত
আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা ইউনিয়নে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী কালভৈরব মেলায় দোকান বরাদ্দের নামে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মেলা কমিটির বিরুদ্ধে। প্রায় ২৫০ বছর ধরে চলে আসা এই মেলা মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে প্রতিবছর দুই দিনব্যাপী আয়োজন করা হয়। চলতি বছর মেলাটি গত মঙ্গলবার শুরু হয়েছে।
মেলায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, দোকানের জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার সময় রশিদ দিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। মন্দির উন্নয়নের কথা বলে এই অর্থ নেওয়া হলেও মন্দির কর্তৃপক্ষ বা দায়িত্বরত পুরোহিত ওই অর্থ থেকে কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
মেলায় অংশ নেওয়া এক নাগরদোলা ব্যবসায়ী বলেন, তাঁর কাছ থেকে প্রথমে ১২ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দরকষাকষির মাধ্যমে ১১ হাজার টাকা দিতে হয়। একইভাবে চটপটি দোকান থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বক্সিং খেলার দোকান থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানান কয়েকজন ব্যবসায়ী।
বিরাট উজান পাড়ার ব্যবসায়ী মোবারক মিয়া বলেন, আগে দোকানপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হতো। এখন প্রতি হাত জায়গার জন্য ১৫০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এভাবে টাকা আদায় করলে ভবিষ্যতে মেলায় দোকান নিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে মন্দির কমিটির সভাপতি নিতেশ গোপ, সাধারণ সম্পাদক বিজয় গোপ এবং অর্থ উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত স্বপন ঘোষ বলেন, মেলা থেকে সংগৃহীত অর্থ মেলা পরিচালনার ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে। অবশিষ্ট অর্থ মন্দির উন্নয়নে ব্যয় করার কথা রয়েছে। তবে স্বপন ঘোষ বলেন, “সব হিসাব সবার কাছে বলা যায় না। কয় টাকাই বা তোলা হয়।”
অন্যদিকে মন্দিরের দায়িত্বরত পুরোহিত আকাশ ভট্টাচার্য এসব দাবির সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, গত দুই বছর ধরে মন্দিরের নাম ব্যবহার করে মেলা থেকে অর্থ তোলা হলেও মন্দির উন্নয়নের জন্য এক টাকাও দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য, “এবারও শুনছি মোটা অঙ্কের টাকা উঠেছে। মেলার শেষে আদৌ মন্দির কিছু পায় কি না, সেটাই দেখার বিষয়।”
পুরোহিতের ছোট ভাই জানান, মন্দিরের রং করাসহ ছোটখাটো সংস্কারকাজ তাঁদের নিজেদের অর্থেই করতে হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শতাব্দীপ্রাচীন এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী মেলাকে ঘিরে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের মতে, মন্দিরের নামে আদায়কৃত অর্থের পূর্ণ হিসাব প্রকাশ এবং প্রকৃত অর্থে মন্দির উন্নয়নে তা ব্যয় হচ্ছে কি না—তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।




