প্রতিবন্ধী হয়েও সংসারের হাল ধরেছেন তাহিরপুরের সেলিম
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর চলার পথ থামাতে পারেনি। মানুষের কাছে হাত না পেতে নিজের সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন সেলিম মিয়া। বাড়ির পাশেই একটি মুদি দোকান খুলে মা ও ভাইকে নিয়ে তিনজনের সংসার চালাচ্ছেন তিনি।
সেলিম মিয়া (২৮) সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের রতনশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। জন্মের পর থেকেই তাঁর দুই পা অকেজো হয়ে পড়ে। পারিবারিক দারিদ্র্য ও অসচেতনতার কারণে পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে পারেননি। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কাছে হার মানেননি তিনি।
সেলিম বলেন, “প্রতিবন্ধী দেখে কারও কাছে হাত পেতে সহযোগিতা চাইতে লজ্জা লাগে। তাই যা সামর্থ্য ছিল, তা দিয়েই কিছু করার চেষ্টা করেছি।” অল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করা মুদি দোকানটি ধীরে ধীরে বড় করেছেন তিনি। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ টাকার মতো আয় হয় বলে জানান সেলিম। তাঁর ভাষায়, “এখন আয় কিছুটা কম হলেও আল্লাহর রহমতে ভালোই চলছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে দোকানটা আরও বড় করতে পারতাম।”
স্থানীয় সামাজিক ব্যক্তিত্ব নাসের উজ্জ্বল বলেন, সেলিম সমাজের অন্য প্রতিবন্ধীদের জন্য অনুপ্রেরণা। প্রায় পাঁচ-ছয় বছর ধরে তিনি নিজ উদ্যোগে দোকান চালিয়ে যাচ্ছেন। মা ও ভাইয়ের দায়িত্ব একাই বহন করছেন। তাঁর এই সংগ্রামী জীবন সবার ভালো লাগার বিষয়।
প্রতিবেশী আহাদুল বলেন, “সেলিম খুব সৎ ও পরিশ্রমী ছেলে। এই দোকান দিয়েই তার সংসার চলে। আমাদের প্রয়োজন হলে আমরা বাজারে না গিয়ে তার দোকান থেকেই জিনিস কিনি। এতে আমাদের সময়ও বাঁচে। আমরা আশা করি, সে একদিন বড় ব্যবসায়ী হবে।”
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়, তারা সমাজের সম্পদ। সেলিম মিয়া তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তিনি বর্তমানে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। তবে সেই ভাতায় সংসার চালানো সম্ভব না হওয়ায় তিনি ব্যবসা করছেন। সরকারিভাবে সহযোগিতা প্রদানে সেলিমের মতো মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
তাহিরপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সাব্বির সারোয়ার বলেন, প্রতিবন্ধী হয়েও সেলিম মিয়া তাঁর কর্ম ও মেধা দিয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রতিবন্ধীদের ভাতার পাশাপাশি পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দিয়ে থাকে। তিনি চাইলে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ঋণের আবেদন করতে পারেন। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলেও জানান তিনি।




