তাহিরপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নে অবস্থিত ইজারাবিহীন মাহারাম নদীতে দিনে ও রাতের আঁধারে, লড়ি, ছোট পিকআপ ও অটোরিকশা দিয়ে অবাধে বালুপাথর লুট প্রতিরোধ ও মাহারাম নদী ও রাজাই মৌজার সীমানা নির্ধারণ করার দাবিতে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আবেদনটি করেন, জেলার তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবুল কাসেম।
বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং মাহারাম নদী বাঁধ রক্ষা কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম লিখিত আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, মাহারাম নদীটি এককালে তাহিরপুররের মরণ ফাঁদ নামে পরিচিত ছিল। প্রায় দেড় যুগ পূর্বে, রাতের আঁধারে আকস্মিক পাহাড়ী ঢলে মাহারাম গ্রামের শতশত ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যায়। হাওর এলাকা খ্যাত তাহিরপুরের কোপাউড়া, মহিষমারা, গোলাঘাট, বলদা, মাটিয়াইন, চুনখলা, সংসা, টাঙ্গুয়া জীবন জীবীকার একমাত্র অবলম্বন বোরো ফসল উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে অকালে তলিয়ে যায়। ফলে বহু আবাদী জমি অনাবাদী জমিতে পরিণত হয়। এরপর হাওরের ফসল রক্ষায় তৎকালীন উপজেলা প্রশাসনসহ এলাকার সচেতন নাগরিকবৃন্দের সার্বিক সহযোগীতায় মাহারাম নদীর মুখে সরকারি বরাদ্দ ও এলাকার সর্বস্তরের জনগণের স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ দেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রতি বছরই বাঁধটি দেয়া হতো।
এছাড়া তিনি লিখেন আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন ৩ বার সরকারি বরাদ্ধে ওই বাঁধটি দেই এবং এর সুরক্ষার্থে নিয়মিত কলমীলতা বপন করি। ধীরে ধীরে প্রাকৃতিক নিয়মে বাঁধটির মুখে চর পড়ে বাঁধটি মজবুত ও টেকসই হয়। ফলে ২০০৮ সালের পর এই মাহারাম নদীর মুখে আর কোন বাঁধ দেয়ার প্রয়োজন হয়নি। এতে করে, বড়দল (উঃ), বড়দল (দঃ), শ্রীপুর (উঃ), শ্রীপুর (দঃ) এই ৪টি ইউনিয়নের ছোটবড় সবগুলো হাওর ও তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের কিয়দংশে থাকা হাওরগুলো পাহাড়ী ঢল থেকে রক্ষা পায়।
তিনি বলেন এলাকার একটি স্বার্থান্বেষী অসাধু বালুখেকো চক্র, ইজারাস্থল অতিক্রম করে, মাহারাম নদীর মুখে চরপড়া বালুর স্তুপ থেকে প্রকাশ্যে ও রাতের আঁধারে ট্রলি গাড়ি ও অবৈধ সেইফ মেশিন চালিয়ে নৌকা দিয়ে মাহারাম নদীর উৎপত্তিস্থল থেকে বালু লুট করে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বাঁধা দেয়াসহ স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করার পরেও এই বালুখেকোদের প্রতিরোধ করা যাচ্ছেনা। এ বিষয়টি নিয়ে গত, ১২ জানুয়ারি মাহারাম নদীর উৎপত্তিস্থলে এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণকে নিয়ে এ বিষয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মতামতের ভিত্তিতে আমরা আপনার শরনাপন্ন হতে বাধ্য হলাম। ওই আবেদনে, মাহারাম নদীর উৎপত্তিস্থল ও রাজাই মৌজার সীমানা নির্ণয় না করলে, ওই বালুখেকো চক্রটি আমাদের ভাটি অঞ্চলের একমাত্র বোরো ফসলকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিবে, এতে করে হাওরবাসী চরম সমস্যার সম্মুখীন হবে।
আবেদনের বিষয়টিকে আমলে নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে মহারাম নদীর উৎসমুখ ও রাজাই মৌজার সীমানা চিহ্নিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।





