জৈন্তাপুরে মাঠ পর্যায়ে কৃষক কৃষানীদের সাথে মতবিনিময় সভা
জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় (১ম সংশোধিত) উপকারভোগী কৃষক কৃষানীদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৭ই জানুয়ারি) দুপুর ২:০০ ঘটিকায় উপজেলার ৬ নং চিকনাগোল ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত উমনপুর এলাকার খালেরপার কৃষি বাগান এলাকায় এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ডঃ মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ন দিলদারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি ঢাকার মহাপরিচালক মোঃ আব্দুর রহিম।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট এর উপ-পরিচালক মোঃ শামসুজ্জামান, প্রকল্প পরিচালক মোঃ রকিব উদ্দিন,জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা দীপক কুমার দাস, ৬ নং চিকনাগোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরী।
এ সময় অতিথিগণ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন হতে আগত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষক কৃষানীদের সাথে উন্মুক্ত মতবিনিময় করেন। সভায় কৃষক কৃষানীরা তাদের উৎপাদিত ফসল সম্পর্কে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও সমস্যাদির কথা তুলে ধরেন।
এ সময় অতিথিবৃন্দ কৃষকদের সব বক্তব্য শুনেন এবং সমস্যাদি নিয়ে আশু সমাধানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। এ সময় বক্তারা বলেন, সিলেট তথা জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি সম্মৃদ্ধ একটি উপজেলা। এখানে বানিজ্যিক আকারে শুধু রবিশস্য উৎপাদন হয় না বরং রপ্তানিযোগ্য নির্দিষ্ট কিছু ফসল যেমন জারালেবু,নাগা মরিছ,শীমের বীচি ইত্যাদি উৎপাদনে জৈন্তাপুর উপজেলার মাটি বিশেষ উপযোগী।
এ ছাড়াও প্রতিবছর তরমুজ,শীম,বরবটি,টমেটো, বেগুন চাষ করে সাবলম্বী হচ্ছে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকরা। বক্তারা বলেন, শুধুমাত্র নির্দিষ্ট এক ফসল নয় বরং মিশ্র বাগান তৈরী সহ ফল সবজী একত্রে চাষ ও পারিবারিক পুষ্টি বাগান তৈরী করে কৃষকের পাশাপাশি কৃষাণীরা উপজেলায় সাবলম্বী হচ্ছে।
এ সময় অতিথিগণ কৃষকদের উত্থাপিত সমস্যার একটি সেচ সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, উপজেলার প্রান্তিক এলাকার অনেক খাল রয়েছে যার সেচ সুবিধা বৃদ্ধি করতে কৃষকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে উপযুক্ত খননের জন্য জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উদ্যোগ গ্রহন করবে। তাছাড়া রপ্তানিযোগ্য কৃষি পন্য সরাসরি উপজেলা থেকে প্রস্তুতি করতে বিশেষ উদ্যোগ হাতে নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া মাঠ পর্যায়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও কৃষকদের সাথে পরামর্শ ও যোগাযোগ রক্ষা করতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এ সময় কৃষক প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার ইলিয়াস হোসেন, সাদিক মোহাম্মদ, ফারুক আহমেদ, সাইফুর রহমান, হাজি জমির উদ্দিন,আবদুল খালিক,সাথি বালা সহ অন্যান্যরা।
এ সময় মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জৈন্তাপুরের উপ -সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) নুরুল ইসলাম খান,উপ- সহকারী ভানু চন্দ্র নাথ,সমর মোহন ধর,কামরুন নাহার,নোমান আহমেদ, শোয়েব আহমেদ, সানজিদা ইসরাত,সাহাব উদ্দিন,দেলোয়ার হোসাইন, সালেহ আহমদ, তামান্না আক্তার,মামুনুর রশিদ ও খাদিজা সুলতানা জেরিন।
পরে অতিথিবৃন্দ প্রদর্শনীপ্রাপ্ত বানিজ্যিক আকারে চাষ করা নাগা মরিচের বাগান পরিদর্শন করেন।




