সিলেট-৩: ১০–দলীয় জোটের প্রার্থী রাজু, বাদ পড়লেন জামায়াতের লোকমান
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
সিলেট-৩ আসন (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) নিয়ে নির্বাচনী সমীকরণে হঠাৎ নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদকে বাদ দিয়ে ১০–দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিসের মুছলেহ উদ্দিন রাজুকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে জোটের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ মাওলানা লোকমান আহমদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে আসছিলেন তিনি। জোটের সমর্থকদের বড় একটি অংশ তার নেতৃত্বেই জয়ের আশা দেখছিলেন।
এর বিপরীতে নতুন প্রার্থী মুছলেহ উদ্দিন রাজু রাজনীতিতে প্রায় অপরিচিত। স্থানীয় ভোটারদের ভাষ্য, এর আগে তাঁকে এলাকায় খুব একটা দেখা যায়নি। হঠাৎ করে রিকশা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে তাঁর আবির্ভাবে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করছেন।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাঠের জনপ্রিয়তাকে উপেক্ষা করে ওপর থেকে প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়ায় অনেকেই হতাশ। তাঁদের মতে, এতে জোটের ভোটব্যাংক দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, পরিচিত প্রতীক ও প্রার্থী না থাকায় ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহও কমে যাচ্ছে।
দক্ষিণ সুরমার তেতলী ইউনিয়নের পুরান তেতলী সেন্টার কমিটির সেক্রেটারি হুরমত আলী বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা লোকমান আহমদের জন্য কাজ করেছি। তিনি এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা ও মানুষের নেতা। তাঁকে বাদ দিয়ে এমন একজনকে দেওয়া হয়েছে, যাঁকে মানুষ চেনে না। এতে আমরা মর্মাহত।’
লালাবাজার ইউনিয়নের ভোটার গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘অনেক ভোটার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। হঠাৎ প্রার্থী পরিবর্তনের খবরে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যেখানে পরিচিত প্রতীক নেই, সেখানে ভোট দিতে যাব কেন—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণ সুরমা উপজেলা জামায়াতের এক নেতা বলেন, ‘লোকমান আহমদকে ঘিরে যে জনসমর্থন তৈরি হয়েছিল, তা নতুন প্রার্থীর পক্ষে স্বল্প সময়ে গড়ে তোলা কঠিন। এতে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জোটের সিদ্ধান্ত মেনে আমরা কাজ করব। তবে দীর্ঘদিন ধরে যে মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছিল, সেটি নতুন করে সাজানো বড় চ্যালেঞ্জ।’
এ বিষয়ে সিলেট জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সাইফুল্লাহ আল হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এখনো মনোনয়ন প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা চলছে।’
উল্লেখ্য, সিলেট-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন মোহাম্মদ আব্দুল মালিক।





