ন্যাটো কমান্ড সেন্টারগুলোতে মার্কিন কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা
ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১:২৩ অপরাহ্ণ
ন্যাটোর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড সেন্টারে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা করেছে ওয়াশিংটন। এই সিদ্ধান্ত ন্যাটো জোটের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে চলতি সপ্তাহে তিনটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপের কয়েকটি দেশকে ইতোমধ্যে বিষয়টি অবহিত করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, ন্যাটোর বিভিন্ন কমান্ড সেন্টার থেকে প্রায় ২০০ জন মার্কিন কর্মী প্রত্যাহার করা হতে পারে। এসব সেন্টার মূলত সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রম তদারকি এবং কৌশলগত পরিকল্পনার দায়িত্বে রয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, ব্রাসেলসভিত্তিক ন্যাটো ইন্টেলিজেন্স ফিউশন সেন্টার, যুক্তরাজ্যভিত্তিক এলাইড স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সেস কমান্ড এবং পর্তুগালভিত্তিক স্ট্রাইকফোরনাটোসহ আরও কয়েকটি কমান্ড সেন্টারে এই ছাঁটাই কার্যক্রম চালানো হবে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট সেন্টারগুলোর কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ও জোটের অভ্যন্তরীণ সংহতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
ন্যাটো নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান
যদিও এই ছাঁটাই ইউরোপে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর সামগ্রিক আকারের তুলনায় তুলনামূলকভাবে সীমিত, তবুও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যার প্রায় অর্ধেক জার্মানিতে অবস্থান করছে।
এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সুইজারল্যান্ডে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগ দেওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি চীন ও রাশিয়াকে ‘বুগিম্যান’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন।
ন্যাটো কর্মকর্তারা অবশ্য বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলেই দেখছেন। রয়টার্সকে ন্যাটোর এক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জনবল ব্যবস্থাপনায় এটি অস্বাভাবিক কিছু নয় এবং বর্তমানে ইউরোপে আগের তুলনায় বেশি সংখ্যক মার্কিন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজ ও পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
সামরিক প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা
সূত্রগুলোর মতে, যেসব সেন্টারে ছাঁটাই করা হবে, সেখানে বর্তমানে প্রায় ৪০০ মার্কিন কর্মী কাজ করছেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এসব সেন্টারে মার্কিন কর্মীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে। দায়িত্ব শেষে সেনাদের ফিরিয়ে এনে শূন্য পদগুলো আর পূরণ না করাই হবে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন ৭৭ বছরের ইতিহাসে ন্যাটো সবচেয়ে জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি। ট্রাম্প এর আগে ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করেছিলেন।
যদিও ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে সম্মত হলে ট্রাম্প ন্যাটো মহাসচিব ও ইউরোপীয় নেতাদের প্রশংসা করেছিলেন, তবে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো আবারও ইউরোপজুড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটোর ভেতরে কোনো ধরনের আঞ্চলিক আগ্রাসন বা অভ্যন্তরীণ বিভাজন জোটটির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।





