ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ
ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১:১৫ অপরাহ্ণ
সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতদের মোট সংখ্যা প্রকাশ করেছে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল জানায়, চলমান বিক্ষোভে মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন।
সরকারি তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ‘শহীদ’ এবং ৬৯০ জনকে ‘সন্ত্রাসী-দাঙ্গাকারী’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। ‘শহীদ’ তালিকায় বেসামরিক বিক্ষোভকারী ছাড়াও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা রয়েছেন।
ইরানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী আকবর পৌরজামশিদিয়ান রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘যারা বিক্ষোভের আড়ালে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় হামলা করেছে—তাদেরকে সন্ত্রাসী-দাঙ্গাকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।’
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প
তিনি আরও বলেন, শহীদদের তালিকা সন্ত্রাসী-দাঙ্গাকারীদের তুলনায় অনেক বড়। এতে সাধারণ বেসামরিক বিক্ষোভকারী যেমন রয়েছেন, তেমনি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও অন্তর্ভুক্ত। এ দুটি তালিকা প্রমাণ করে, সরকার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহনশীলতা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে—এমন দাবি করেন তিনি।
তবে ইরানের সরকারি হিসাবের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যের রয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৪ হাজার ৫৬০ জন নিহত হয়েছেন। সংস্থাটি দাবি করেছে, ইরানের অভ্যন্তরে থাকা নিজস্ব তথ্যদাতাদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই সংখ্যা যাচাই করা হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন সূত্রের বরাতে নিহতের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। গত ১৮ জানুয়ারি ইরানের এক সরকারি কর্মকর্তা বিক্ষোভে অন্তত ৫ হাজার জন নিহত হওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এখনো এসব সংখ্যার স্বাধীন যাচাই করতে পারেনি।
উল্লেখ্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা দেশটির ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং দিন দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একপর্যায়ে ইরান সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়। কঠোর দমননীতির মাধ্যমে বর্তমানে বিক্ষোভ পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে দাবি করছে সরকার।





