জৈন্তাপুরের শত্রুতার বলি তরমুজ ক্ষেত,থানায় অভিযোগ
সাইফুল ইসলাম বাবু, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ণ
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় রাতের আঁধারে তরমুজ ক্ষেত কেটে তছনছ করার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতির শিকার হয়েছেন এক কৃষক।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. আহমদ আলী (৫৩) এ ঘটনায় জৈন্তাপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি জৈন্তাপুর উপজেলার ৪নং দরবস্ত ইউনিয়নের ডাইয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত হরমুজ আলির পুত্র।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ডাইয়া মসজিদের মালিকানাধীন বেদু হাওরে পাঁচ বিঘা জমিতে চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষ করেন মো. আহমদ আলী। গত ২০শে জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ২১শে জানুয়ারি সকাল ৮টার মধ্যে যেকোনো সময়ে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা শত্রুতার বশবর্তী হয়ে তার তরমুজ ক্ষেতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার ফুলধরা তরমুজ গাছ কেটে ফেলে। এতে আনুমানিক ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত দেখান।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. আহমদ আলী বলেন,“আমি একজন সাধারণ কৃষক। গত পাঁচ বছর ধরে বানিজ্যিক আকারে তরমুজ চাষ করে আসছি। চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে ধার-দেনা করে প্রথমবার ডাইয়া মসজিদের মালিকানাধীন বেদু হাওড়ে এই তরমুজ ক্ষেত করেছি। রাতের আঁধারে আমার পুরো ক্ষেত কেটে শেষ করে দিয়েছে। এতে আমার বড় ধরণের ক্ষতি হয়ে গেলো। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব আহমেদ বলেন,“ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তরমুজ ক্ষেতের পুরোটাই ক্ষতি হয়েছে, যা একজন কৃষকের জন্য বড় ধাক্কা। মোঃ আহমেদ আলি একজন সফল তরমুজ চাষি। এই বাগানে ফুল আসতে মাত্র শুরু হয়েছিলো। আগামী রমজান মাসে বাজারজাত শুরুর সম্ভাবনা ছিলো। কিন্তু দূর্বৃত্তরা সব স্বপ্ন ধ্বংস করে দিলো। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীদের সনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নেক্কারজনক এ ঘটনায় দরবস্ত সহ পুরো উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।




