সুনামগঞ্জ-৩ আসনে পাশা কে নিয়ে বিপাকে ১০ দলীয় জোট
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:১৩ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট নতুন করে চাপে পড়েছে তাদের অন্যতম প্রার্থী হিসেবে আলোচিত সমালোচিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা শাহিনুর পাশা চৌধুরীকে ঘিরে।
এলাকাজুড়ে তার অতীত রাজনৈতিক অবস্থান, ভূমিকার পরিবর্তন এবং একাধিক বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর প্রভাব পড়ছে জোটের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও ভোটারদের আস্থার ওপর।
২০২৪ সালে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর শাহিনুর পাশা চৌধুরী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন। ওই নির্বাচনে তিনি মাত্র ৪ হাজার ৫ ভোট পেয়ে জামানত হারান।
নির্বাচনের আগে তিনি জনসমক্ষে দাবি করেছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আসন ‘কনফার্ম’ করে এসেছেন- যা নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডামি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগেই এলাকাভিত্তিক গ্রহণযোগ্যতা ছিল সীমিত। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে-নির্বাচনকালীন সময়ে যেসব নেতাকর্মী জেল-জুলুমের শিকার হয়েছিলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তাদের খোঁজখবর রাখা হয়নি। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ এবং সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তা বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের আসামপুর গ্রামের এক বাসিন্দার অভিযোগ, ২০০৬ সালে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা নেওয়া হলেও পরে না বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে, না অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জগন্নাথপুরের কিছু এলাকায় তার প্রবেশ নিয়ে অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞার কথাও শোনা যায়। বিভিন্ন সময়ে লেনদেন ও আমানতদারিতা সংক্রান্ত অভিযোগও সামনে এসেছে।
রাজনৈতিক ভাবে তিনি অতীতে বিএনপি ও জমিয়তের সমর্থনে ২০০৬ সালের উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে অল্প ভোটের ব্যবধানে তৎকালীন স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ মান্নানের সঙ্গে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার অবস্থানকে দুর্বল বলেই মনে করছেন অনেকেই।
বর্তমানে বিএনপি ও জমিয়ত জোটের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বিএনপি নেতা কয়সর আহমদ। এছাড়া সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই নাজুক বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের অভিমত।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সময় শাহিনুর পাশার ভূমিকা কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। একই বছরের ৩০ জুলাই তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলেও আলোচিত হয়। ০৫ অগাস্টের পর তিনি মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন দলে যুক্ত হয়ে আসন সমঝোতার মাধ্যমে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে উন্মুক্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে এলেও এলাকায় নিজেকে একক প্রার্থী হিসেবে প্রচার করছেন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জোটের শরিকদের অভিযোগ।
এই আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির মনোনীত প্রার্থী, জুলাই বিপ্লবী ও সাবেক জগন্নাথপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ তালহা আলম এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থী যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শেখ মোস্তাক আহমেদও মাঠে রয়েছেন। দু’জনই এলাকায় তুলনামূলক ভাবে গ্রহণযোগ্য হিসেবে পরিচিত।




