ধর্মপাশায় সরকারি জলমহাল থেকে লাখ-লাখ টাকার মাছ লুট
ধর্মপাশা - মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:১৭ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ” আতলা ” নামক সরকারি একটি জলমহাল থেকে প্রতি রাতেই স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র লাখ-লাখ টাকার মাছ হরিলুট করে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ১ মাস ধরে ওই জলমহাল থেকে অবৈধভাবে রাতের আঁধারে বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে উপজেলার বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আফজাল হোসেন স্বপনের নেতৃত্বে শাজাহান মিয়া, এমরান মিয়া, জুনায়েদ মিয়াসহ এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে সরকারি ওই জলমহালটি থেকে লাখ-লাখ টাকার মাছ লুটে নিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের ‘আতলা’ নামক সরকারি এ জলমহালটি জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে চলতি ১৪৩০ বাংলা সন থেকে ১৪৩৫ বাংলা সন পর্যন্ত ৬ বছরের জন্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ইজারায় বন্দোবস্ত দেয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়।
দরপত্র অনুযায়ী শাহাপুর উদ্দীপন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি শাহজাহান মিয়া জলমহালটির ইজারাপ্রাপ্ত হন।
এর পরপরই ইজারাপ্রাপ্ত ওই সমিতি শাহাপুর উদ্দিপন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি শাজাহান মিয়া ১৪৩২সনের খাজনা পরিশোধ না করে জলমহাল দখল করে জলমহাল থেকে অবৈধভাবে রাতের আঁধারে মাছ লুটের অভিযোগে জলমহালটি জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার নির্দেশ জারি করা হয়। পরে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে গত ৫ ডিসেম্বর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশ সেখানে গিয়ে জলমহালটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন এবং জলমহালের তীরবর্তী স্থান থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দেন। কিন্তু এর ২-৩ দিন পর থেকেই বিএনপির নেতা আফজাল হোসেন স্বপনের নেতৃত্বে শাজাহান মিয়া, এমরান মিয়া, জুনায়েদ মিয়াসহ একটি প্রভাবশালী চক্র প্রতি রাতেই ওই জলমহাল থেকে বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে লাখ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসন আরও জানায়, জেলার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সরকারি জলমহালের মধ্যে আতলা জলমহাল অন্যতম। দীর্ঘদিন ধরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এ জলমহালটি ৬ বছরের জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারায় বন্দোবস্ত দিয়ে আসছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানায়, উপজেলা প্রশাসনের নিষেধ অমান্য করে প্রতি রাতেই বিএনপি নেতা আফজাল হোসেন স্বপনের নেতৃত্বে ওই জলমহালে গগনবেড় জাল, খনাজাল, ঝাপজাল ও উথার জাল দিয়ে প্রায় ৪০-৫০ জন লোক অবৈধভাবে লাখ লাখ টাকার মাছ ধরে বিক্রি করে আসলেও তারা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় এদের বিরুদ্ধে এলাকার কেউ প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পায় না।
গত ১ মাস আগে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জলমহালটির তীরে থাকা ওই লুটেরা চক্রটির গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা ও খলা ভেঙে দেয়া হয়। তারপরও প্রভাবশালী চক্রটি রাতের আঁধারে তারা মাছ ধরার কাজটি অব্যাহত রেখেছে বলে এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান। এই পর্যন্ত ওই চক্রটি সরকারি এ জলমহালটি থেকে প্রায় ৩০-৩৫ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে গেছে বলে তারা জানিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আফজাল হোসেন স্বপন ও শাহাপুর উদ্দীপন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি শাহজাহান মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা দুইজনের ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে তাদের সহযোগী এমরান মিয়ার কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আমাদের ইজারাকৃত জলমহাল থেকে মাছ ধরে বিক্রি করছি। তবে এবার জলমহালটিতে মাছের পরিমাণ খুবই কম।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে গত ৫ ডিসেম্বর আমরা ওই জলমহালটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি এবং জলমহালের আশপাশে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনাগুলোও উচ্ছেদ করে দেই। তবে রাতের আঁধারে কেউ যদি সরকারি ওই জলমহাল থেকে অবৈধভাবে মাছ ধরে নেয়। তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা জলমহাল ইজারা ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, ওই জলমহালটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে শুনেছি রাতের আঁধারে জলমাহালটি থেকে একটি চক্র মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তবে তবে দ্রুতই ওই চক্রটিকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




