হবিগঞ্জে অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১২ টি, নির্বিকার প্রার্থীরা
বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। প্রতিদিন একের পর এক সভা–সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন তাঁরা। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র নিয়ে তেমন ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছেন প্রার্থীরা। তাঁদের ভাষ্য, এবারের নির্বাচনে ভোটাররা নিজের ভোট নিজেরাই দেবেন।
হবিগঞ্জ–২ আসনটি দুটি উপজেলা, একটি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে ১৫০টি ভোটকেন্দ্রে ৭৫৪টি ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। এসব কক্ষে সরাসরি ভোট দেবেন তিন লাখ ৮৯ হাজার ২৯৯ জন ভোটার। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন পাঁচ হাজার ৪৫৮ জন ভোটার। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদ রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বানিয়াচং উপজেলায় ৪৭টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি কেন্দ্রকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের তারাসই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মক্রমপুর ইউনিয়নের নোয়াপাথারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুজাতপুর ইউনিয়নের ইকরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইকরাম নন্দপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হানিফখান দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়সহ একাধিক কেন্দ্র।
ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে বিএনপি প্রার্থী ডা. জীবনের নিজ কেন্দ্র কামালখানী রাশিদিয়া হাসানিয়া জামেউল উলুম মাদ্রাসা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা। একই তালিকায় ইসলামী জোটের খেলাফত মজলিস প্রার্থীর নিজ কেন্দ্র গরীব হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি প্রার্থী ডা. জীবন বলেন, কোনো কেন্দ্রকে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন না। দীর্ঘদিন পর মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, সেখানে ঝুঁকির আশঙ্কা নেই। ইসলামী জোটের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল বাসিত আযাদও একই মত প্রকাশ করেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আফসার আহমদ রূপক বলেন, তিনি দুই উপজেলার সব এলাকা ঘুরে দেখেছেন। কোথাও ঝুঁকির কোনো লক্ষণ দেখেননি। তবে প্রশাসন যদি কোনো কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে, তাহলে তারা নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবে।
বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমদ বলেন, তাঁর যোগদানের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাখী রানী দাস বলেন, কেন্দ্রের অবস্থান, অবকাঠামো, ভৌগোলিক পরিবেশ ও অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়। ঝুঁকির ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




