একটি দল সারাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে : নাহিদ
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে একটি দল ততই হিংস্র হয়ে উঠছে—মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “ফ্যাসিবাদি আওয়ামী লীগের মতো একটি দলের নেতাকর্মীরা হামলা মামলা সন্ত্রাসকে ক্ষমতার সিঁড়ি বেছে নিয়েছে। জুলাই বিপ্লবের আগে আপনারা দেখেছেন ফ্যাসিস্ট আমলে এই পুরো বাংলাদেশে কি ধরণের পরিস্থিতি হয়েছিল। আমরা চাই না বাংলাদেশটি আগের মতো হোক।”
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) জেলার শ্রীমঙ্গল শহরের স্টেশন রোডে মৌলভীবাজর-৪ আসনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব শাপলা কলি প্রতীকের প্রীতম দাশের নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা স্পষ্ট করেই বলেছিলাম যে, বাংলাদেশ একটি নতুন বাংলাদেশ হবে। আইনের শাসন অনুযায়ী সবার ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে। যারা অপরাধের সাথে যুক্ত ছিল না, গণহত্যার সাথে জড়িত ছিল না এবং ফ্যাসিস্ট ছিল না তাদের প্রতি কোনো ধরণের অবিচার করা হবে না। কিন্তু আমরা দেখেছি একটি দল সারা দেশে ফ্যাসিস্টের নাম করে মামলা দিয়েছে এবং ব্যাপক মামলা বাণিজ্য করেছে।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, “যখন ভোটের সময় আসছে তারা বলছে—ধানের শীষে ভোট দিলে মামলা প্রত্যাহার করা হবে। যা জনগণের সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা। এই প্রতারণা তারা তাদের ইশতেহারও করছে। তারা একসময় ৩১দফা সংস্কারের কথা বলেছিল, কিন্তু নিজেরাই সেই প্রতিশ্রুতি বিক্রি করে দিয়েছে। এখন তারা আবার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এসব মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। যারা ১৭ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে দমন-পীড়ন চালিয়েছে, আজ তাদেরই পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর নির্যাতন চালানো আওয়ামী লীগকে আবারও নির্বাচনের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার জন্য একটি দলের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন জায়গায় সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন।”
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “খুনি যদি বলে, আজ তাকে ফাঁসি দিলে কাল আমাকে ফাঁসি দেয়া হবে না—তার নিশ্চয়তা কোথায়? একটি দল সারাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ওপর হামলা করছে এবং ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করছে। যা আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডেরই পুনরাবৃত্তি। একতরফা হামলা চলতে থাকলে ১১ দলও বসে থাকবে না। জনগণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে এর জবাব দেবে।”
নাহিদ আরও বলেন, “এনসিপি সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার চার আসন বেছে নিয়েছে, আপনাদের অধিকার আদায়ের জন্য। মুসলিম-হিন্দু, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, সব মানুষের প্রতিনিধি। প্রীতম দাশ বিজয়ী হলে আপনাদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শাপলা কলির পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেন। আমরা চাই না—আমাদের বিভক্তির জন্য এই আসন চাঁদাবাজদের দখলে যাক। আগামী নির্বাচনে পুরা সিলেট বিভাগের সব আসনে শাপলা কলির ফুল ফুটাতে পারব—ইনশাআল্লাহ।”
পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরুত্থান রোধে এবার ১১ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এবারের নির্বাচন কেবল নির্বাচন নয়, এটি একটি গণভোট।” গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে জনগণকে বিচার-বিবেচনা করে ভোট দেয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, “আমরা ঘণ্টায় ১০০ টাকা মজুরির দাবি করেছি। শিক্ষানবিশ শ্রমিকদের জন্য ঘণ্টায় ৬০ টাকা মজুরির দাবিও তুলেছি। নির্বাচিত হলে এই দাবি বাস্তবায়নে আমরা কাজ করব।”
মৌলভীবাজার-৪ আসনে শাপলা কলির প্রার্থী প্রীতম দাশ বলেন, “শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের মানুষের সুবিধার জন্য বিগত ৫ আগস্টের পর আমি অনেকগুলো কাজ করেছি।” বিজয়ী হয়ে চা শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন, ভূমি মলিকানাসহ নির্বাচনী আসনে নানা উন্নয়নমূলক কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি।
এতে আরও ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিন, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এহতেশাম হক প্রমুখ।
পরে একটি নির্বাচনী প্রচারণা মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শ্রীমঙ্গল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।




