মৌলভীবাজার–৩ আসনে সুবিধাজনক অবস্থানে বিএনপি
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার–৩ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী মাঠে জোটগত অনৈক্যের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর আলাদা প্রার্থী থাকায় ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান।
এই আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন—বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম নাসের রহমান (ধানের শীষ), ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা আহমদ বিলাল (দেয়াল ঘড়ি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান (দাঁড়িপাল্লা) এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী জহর লাল দত্ত (কাস্তে)।
১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষ থেকে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও রাজনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আহমদ বিলালকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নানের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা থাকলেও তিনি তা করেননি। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের চাপের কারণে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি বলে স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
এর ফলে ১১ দলীয় জোটের ভেতরে কার্যত দ্বৈত প্রার্থী থাকার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই অনৈক্যের ফলে ইসলামী ভোট ব্যাংক বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যার সুফল পেতে পারেন বিএনপি প্রার্থী।
এদিকে জোটের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আহমদ বিলাল নিয়মিত গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। শহর ও গ্রামে পথসভা, মিছিল এবং জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি ভোটারদের সমর্থন চাইছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল মান্নানও মাঠে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁর পক্ষে প্রচারণা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন পোস্টে তাঁকে ‘জনগণের প্রার্থী’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই তিনি সরাসরি মাঠে নেমে বড় পরিসরে গণসংযোগ শুরু করবেন।
এ বিষয়ে আব্দুল মান্নানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে বিএনপি প্রার্থী এম নাসের রহমানের সাংগঠনিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্ত। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রকাশ্য কোনো কোন্দল নেই। দলীয়ভাবে সবাই ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন বলে জানান তাঁরা।
এ প্রসঙ্গে এম নাসের রহমান প্রথম আলোকে বলেন, “ধানের শীষের পক্ষে জনসমর্থন স্পষ্ট। আমি বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।”
তিনি আরও বলেন, অতীতে বিএনপি সরকারের সময় মৌলভীবাজারে যেসব উন্নয়ন হয়েছে, ভবিষ্যতেও সেগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু এবং জেলার সার্বিক উন্নয়ন তাঁর অগ্রাধিকার বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আহমদ বিলাল বলেন, “আমাকে জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করছি। আশা করছি শেষ পর্যন্ত সবাই একসঙ্গে কাজ করবে।”
তিনি নির্বাচিত হলে মনু নদীর স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন, হাসপাতালের উন্নয়ন এবং শমসেরনগর বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
মৌলভীবাজার–৩ আসনে রয়েছে মৌলভীবাজার পৌরসভাসহ সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন এবং রাজনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ২১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৩১ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ১৭৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৩৪টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।





