সংবিধানের ক্ষমতার ভারসাম্য আনতেই জুলাই সনদ: আলী রীয়াজ
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের মূল লক্ষ্য রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, এই সনদ কোনো সাধারণ রাজনৈতিক দলিল নয়; স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে প্রাণ দেওয়া শহীদদের আত্মত্যাগের স্মারক।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার বিষয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরতন্ত্র, নিপীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছেন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন, তারা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য একটি দায়িত্ব রেখে গেছেন। সেই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই রাষ্ট্রকে আরও জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক কাঠামোয় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিদ্যমান সংবিধানে রাষ্ট্রক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতেই অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে সংবিধানে প্রয়োজনীয় কিছু মৌলিক পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতা কাঠামো ভেঙে পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষমতা প্রসঙ্গে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, অতীতে এ ক্ষমতার গুরুতর অপব্যবহার হয়েছে। বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাতেই এই ক্ষমা কার্যকর হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে জুলাই সনদে একটি নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে ক্ষমা প্রদানের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সম্মতি ছাড়া কাউকে ক্ষমা না দেওয়ার বিধান যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এসব পরিবর্তন কার্যকর করতে গণভোটে জনগণের অনুমোদন প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে তিনি বলেন, সংবিধানে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে রাষ্ট্রপতির ভূমিকার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীর একক প্রভাবের নজির রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে রাজনৈতিক দলগুলো এক ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। গণভোটে ইতিবাচক রায় মিললে এসব সংস্কার বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে বলে তিনি জানান।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আলীমূল ইসলাম, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিজাম উদ্দিন এবং হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সায়েম উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।





