কিংবদন্তি ফুটবলার রণজিত দাস আর নেই
ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
সবুজ মাঠে যিনি বুক চিতিয়ে রুখে দাঁড়াতেন প্রতিপক্ষের আক্রমণ, আজ সেই অদম্য গোলরক্ষক নিজেই থেমে গেলেন চিরতরে। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক উজ্জ্বল অধ্যায়, কিংবদন্তি ফুটবলার ও ক্রীড়াসংগঠক রণজিত দাস আর নেই।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে সিলেট নগরের তালতলা এলাকার পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। এই খবরে সিলেটসহ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
রণজিত দাসের সন্তান, নাট্যকার রীমা দাস বাবার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। সম্প্রতি সর্দি–কফজনিত সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই আজ সকালে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। সন্ধ্যায় নগরের চালিবন্দর এলাকার শশ্মানে সম্পন্ন হবে তাঁর শেষকৃত্য।
১৯৩২ সালের ২৯ অক্টোবর, সিলেট শহরের জিন্দাবাজার কুড়িটুলা এলাকায় জন্ম নেওয়া রণজিত দাস ছিলেন একাধারে ক্রীড়াবিদ, সংগঠক ও প্রেরণার নাম। পেশায় ব্যাংক কর্মকর্তা হলেও তাঁর আসল পরিচয় ছিল—খেলার মাঠে, দর্শকের হৃদয়ে।
১৯৫৫ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান ফুটবল দলের নির্ভরতার প্রতীক, জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী। দু’বার অধিনায়কত্ব করেছেন দলকে। খেলেছেন ঢাকার প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগে, এমনকি ১৯৫৭ সালে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের জার্সিতেও।
ফুটবলের পাশাপাশি হকিতেও ছিল তাঁর সমান দাপট। ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের হয়ে খেলেছেন জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে। ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান হকি দলসহ প্রথম বিভাগ লিগেও রেখেছেন স্মরণীয় অবদান।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি থেমে যাননি। সংগঠক হিসেবেও ছিলেন অগ্রণী। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সভাপতি, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবল সম্পাদক ও কোচ, পূর্ব পাকিস্তান যুব ফুটবল দলের কোচ—ক্রীড়াঙ্গনের এমন কোনো স্তর নেই, যেখানে তাঁর স্পর্শ পড়েনি।
রাষ্ট্রও ভুলে থাকেনি এই কৃতী সন্তানকে। ২০০৭ সালে তিনি লাভ করেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি তুলে ধরেছেন নিজের পথচলার গল্প—‘ক্রীড়াঙ্গনের ফেলে আসা দিনগুলো’ (২০২৫) স্মৃতিচারণমূলক বইয়ে।
রণজিত দাস চলে গেলেন, কিন্তু রেখে গেলেন মাঠভরা স্মৃতি, প্রজন্ম ছুঁয়ে যাওয়া অনুপ্রেরণা আর এক নিঃশব্দ দৃঢ়তার ইতিহাস। গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে যিনি শিখিয়েছিলেন হার না মানতে—আজ ক্রীড়াঙ্গনই তাঁর কাছে চিরবিদায় জানাচ্ছে।





