কমলগঞ্জে সরকারি জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা আদমপুর ইউনিয়নের আধকানি গ্রামের বাসিন্ধা ও জুড়ি উপজেলার ভুমি অফিসে কর্মরত উপ-সহকারী তহসিলদার মজিদ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলীল সৃষ্টি করে জমি দখল ও সরকারী ভুমিতে পাকা দালান করে দোকান নির্মানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাল দলীলের মাধ্যেমে জমি দখলে নেয়ার কারনে গ্রামের দরবেশ আলী গংদের পরিবার নিংস্ব হওয়া সহ হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।
জানা যায়,আদমপুর ইউনিয়নের আধকানি গ্রামের বাসিন্ধা মৃত হাতিম উল্ল্যা তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি ছেলে আব্দুল গফুরকে ২ একর ৫৪ শতক জমি দান করেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি হওয়ায় দানে পাওয়া জমি বর্গা চাষ করতেন একই গ্রামের এতরাজ উল্ল্যা।
গফুর মিয়া জীবিত থাকা অবস্থায় ১৯৭৯ সালে ৫৪৩৩ নং দাগের ৩০ শতক জমি বিক্রি করেন একই গ্রামের আব্দুল খালিকের কাছে। অবিক্রিত জমি বর্গা চাষ করতে থাকেন এতরাজ উল্ল্যা। ইতিমধ্যে গফুর মিয়া মারা যান। বর্গা চাষী এতরাজ উল্ল্যা জমির মালিক মৃত গফুরের ছেলেদের ধান না দেয়ার কারন জানতে চাইলে জানতে পারেন যে, ওই জমি মজিদ মিয়া ২০০৬ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে ও উপ-সহকারী তহসিলদার হওয়ায় চতুরতার সাথে জাল দলীল সৃষ্টি করে গফুর মিয়ার ৪৫৩৩ নং দাগের ২.৫৪ শতক এবং জমা ৭.৬২ শতক ভুমি জবর দখল করে নেন।
দরবেশ গংরা জমির দলীল বিষয়ে মজিদ মিয়ার নিকট জানতে চাইলে তাদেরকে কোন সদুত্তর না দেয়ায় তারা জমির অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন জানান।
আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিদের্শ দেন। তদন্তকালীন সময়ে মজিদ মিয়া জমির মালিকানার স্বপক্ষে ৪৫৩৩ দাগের সাড়ে ৭ শতক জমি ক্রয়ের ৬৪৯১/৮৯ নং দলীল উপস্থাপন করেন।
এখানে ধরা পড়ে জমির দলীল জাল। দলীলে দেখা যায় জমি বিক্রি করেছেন মোছা খোদেজা বিবি,পিতা বসির উদ্দিন, গ্রাম কামারগাঁও থানা নবীগঞ্জ এবং ক্রয় করেছেন আলতা মিয়া, পিতা কনা মিয়া, গ্রাম বৃন্ধাবনপুর ইউপি পতনঊষার, থানা কমলগঞ্জ।
এদিকে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের তহসীল অফিসের জমির প্রকৃত তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য চাইলে মজিদ মিয়া তহসীলদাদের প্রভাব ও সহকর্মীর সহযোগিতা নিয়ে আদমপুর ইউনিয়ন ভুমি অফিস থেকে ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোত্তাকীনের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে ক্রয়কৃত জমি তার নামে রেকর্ড সংশোধনী ও দখল আছে মর্মে দাখিল করান।
এদিকে, দরবেশ গংরা জাল দলীলের মাধ্যমে মজিদের দখলে থাকা ভুমি নিজেদের দখলে নিয়ে নিলে মজিদ আদালতের মাধ্যমে উক্ত ভূমিতে আইনশৃঙ্খলা অবনতির হওয়ার আশংকা জানিয়ে মামলা দায়ের করলে আদালত ১৪৪ ধারা জারী করে।
কিছু খাস ভূমি দখল করে আধা-পাকা ঘর তৈরী করে তার ছোট ভাই মুক্তাদিরকে দিয়ে মুদি দোকান করে দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মজিদ মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে আলাপ কালে তিনি দলীল সূত্রে জমি মালিক দাবী করেন। তবে দলীল দেখানোর জন্য সময় নিয়ে ও দলীল দেখাতে না এসে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।
আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেনের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। ব্যাপারটি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, তাই এখানে আমার করনিয় কিছু নেই। তবে মজিদ মিয়া সর্ম্পকে তিনি আরো বলেন, মানুষটি সুবিধাজনক নয়। তার সর্ম্পকে খোঁজ-খবর নিলে আরো অভিযোগ পেতে পারেন’
কমলগঞ্জ থানার এসআই আমির বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে শান্তি-শৃংঙ্খলার বজায় রাখার জন্য উভয়পক্ষকে জমিতে না নামতে নিষেধ করা হয়েছে।’
জমির দখল নিয়ে এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। যে কোন সময় আইনশৃঙ্খার অবনতি হওয়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসী।





