সুনামগঞ্জে ধানের শীষ বিজয়ে বড় ফ্যাক্টর বিদ্রোহী দুই প্রার্থী
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের দুটি সংসদীয় আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে দলটির নির্বাচনী সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকা দুই নেতা শক্ত অবস্থান তৈরি করায় ধানের শীষের প্রার্থীদের জয় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) এবং সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে থাকায় দুই প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কার হলেও তাঁরা প্রচারণা থামাননি। উল্টো মাঠে তাঁদের উপস্থিতি দৃশ্যমান।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমদের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন (তালা প্রতীক)। সাত প্রার্থীর এই আসনে জগন্নাথপুরের প্রার্থীদের মধ্যে ভোট ভাগাভাগির সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছেন তিনি। স্থানীয়ভাবে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় তাঁর অনুসারী ভোটব্যাংক রয়েছে বলেও জানা গেছে।
অন্যদিকে দলীয় প্রার্থী কয়ছর আহমদ দুই উপজেলাতেই দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত রেখেছেন। প্রবাসী নেতাকর্মীদেরও নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত করেছেন তিনি। ফলে প্রচারে এগিয়ে আছেন বলে দাবি তাঁর সমর্থকদের।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন (মোটরসাইকেল প্রতীক)। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এবং একাধিকবার উপজেলা ও পৌর পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং পারিবারিক পরিচিতি তাঁকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শামস উদ্দীনও সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে বিএনপির ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের মতে, ধানের শীষের প্রার্থীরা পরাজিত হলেও এই দুই আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।





