বেকার ভাতা যুবকদের জন্য অপমানজনক, আমরা কর্মসংস্থান গড়ব : জামায়াত আমীর
ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘যুবসমাজ দেশের সম্পদ, তারা কোনো দয়া বা অনুদান চায় না। ২০২৪ সালের আন্দোলনে যুবকরা কি বেকার ভাতার জন্য প্রাণ দিয়েছিল? তারা বলেছিল আমরা কাজ করতে চাই, দেশ গড়তে চাই। আমরা যুবকদের হাতে অপমানজনক ‘বেকার ভাতা’ তুলে দেব না। প্রতিটি বেকার যুবকের হাতকে শক্তিশালী ও কর্মক্ষম করে গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ।’
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির নাম উল্লেখ না করে তাদের প্রস্তাবিত ‘বেকার ভাতা’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সভায় তিনি আরও বলেন,
‘কেউ কেউ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে বেরিয়েছেন। আমাদের সরলমনা কৃষকদের ধোকা দিচ্ছেন। যারা আজ ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর কথা বলছেন, তাদের শাসনামলেই সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের গুলি করে মারা হয়েছিল।’
এ সময় উপস্থিত জনতা ‘ভুয়া-ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে তাঁর বক্তব্যের সমর্থন জানান।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমীর বলেন, ‘বিগত সময়ে চোরেরা ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আল্লাহ তৌফিক দিলে এদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে পাচার করা টাকা উদ্ধার করে আনব। এ টাকা বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের চার গুণেরও বেশি। টাকা পাচারকারী ‘মামু-খালু’ কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্কটের কথা তুলে ধরে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ‘আগামী ১২ তারিখ নির্বাচিত হতে পারলে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গবেষণাগারে রূপান্তর করা হবে।’
‘শিক্ষাকে ইচ্ছাকৃতভাবে পঙ্গু করে রাখা হয়েছে। আমরা কৃষিকে কেবল চাষাবাদ নয়, একটি সমৃদ্ধ শিল্পে পরিণত করে বিপ্লব ঘটাব।’
সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারের বেতন কাঠামো কর্মঘণ্টা পুনর্মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘২৪ ঘণ্টা ডিউটি করা পুলিশ আর ৮ ঘণ্টা কাজ করা চাকরিজীবীর বেতন এক হতে পারে না। আমরা যার যা হক, তা বুঝিয়ে দেব। তবে এর পরও কেউ অপরাধ করলে তাকে কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে।’
সব ধর্মের নারীদের সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘একই আসমানের নিচে সব ধর্মের নারী সাহস ও সম্মানের সাথে বসবাস করবেন। আমরা প্রতিটি নারীকে মায়ের দৃষ্টিতে দেখি।’
শফিকুর রহমান ময়মনসিংহ জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থীদের মঞ্চে ডেকে পরিচয় করিয়ে দেন।
এ সময় তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন,
‘এবারের নির্বাচন ভাগ্য বদলের নির্বাচন। ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদী, আর ‘না’ মানে গোলামী।’
জনসভাকে কেন্দ্র করে সার্কিট হাউস মাঠ ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সকালে তিনি কিশোরগঞ্জের জনসভায় বক্তব্য রাখেন। সেখান থেকে শফিকুর রহমান হেলিকপ্টারে ময়মনসিংহে আসেন। ময়মনসিংহে জামায়াতের আমিরের আগমন ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছিল। ময়মনসিংহ সদর ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল আসতে থাকে সার্কিট হাউস মাঠে।
ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মহানগর জামায়াতের আমীর কামরুল আহসান এমরুল। এ আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৩০৬ জন। পুরুষ ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৫ জন। নারী ৩ লাখ ৫০ হাজার ২৫১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১০ জন ভোটার রয়েছেন। ১৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।কামরুল আহসান এমরুল ছাড়া অন্য প্রার্থীরা হলেন বিএনপির আবু ওয়াহাব আকন্দ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) এমদাদুল হক মিল্লাত, জাতীয় পার্টির আবু মো. মুসা সরকার, গণসংহতি আন্দোলনের মো. মোস্তাফিজুর রহমান রাজিব, ইসলামী আন্দোলনের নাসির উদ্দিন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) মো. লিয়াকত আলী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. হামিদুল ইসলাম ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের শেখর কুমার রায়।





