সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনেই লড়াই হবে ত্রিমুখী
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। হাওরবেষ্টিত এই জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনেই শেষ মুহূর্তে এসে লড়াই স্পষ্টভাবে ত্রিমুখী রূপ নিচ্ছে। দীর্ঘদিন বিএনপির প্রভাববলয় হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জে এবার দলটির প্রার্থীরা চাপে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামী ও শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীভিত্তিক গ্রহণযোগ্যতা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একাধিক আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতি বিএনপির ভোট ভাগ হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাঠে নিজেদের সংগঠন সক্রিয় করছে জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
আসনভিত্তিক চিত্র
সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা–জামালগঞ্জ–মধ্যনগর–তাহিরপুর)
এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সীমিত হয়ে এসেছে। বিএনপির প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের বিপরীতে জামায়াতের তোফায়েল আহমদ সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকায় তাদের ভোটের বড় অংশ কোন দিকে যাবে, তা নিয়েই আলোচনা বেশি।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই–শাল্লা)
ঐতিহ্যবাহী এই আসনে বিএনপির নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে জামায়াতের শিশির মনিরের লড়াই জমে উঠেছে। ব্যক্তিগত ইমেজ ও সামাজিক কর্মকাণ্ড এখানে ভোটের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর–শান্তিগঞ্জ)
জেলার সবচেয়ে বেশি প্রার্থী এই আসনে। বিএনপির প্রার্থী কয়ছর আহমেদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন নিজ দলের বিদ্রোহী আনোয়ার হোসেন। আঞ্চলিক পরিচয়কে সামনে রেখে ভোটার টানার চেষ্টা চলছে। প্রবাসী ভোটারদের সমর্থন এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সুনামগঞ্জ-৪ (সদর–বিশ্বম্ভরপুর)
সদর আসনে বিএনপির নূরুল ইসলামের বিপরীতে মাঠে আছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও জামায়াতের প্রার্থী। এতে ভোট ভাগ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জাতীয় পার্টিও এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছে।
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার)
তিনবারের সাবেক সাংসদ কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন এখানে বিএনপির প্রধান ভরসা। তবে জামায়াতের প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালামের সঙ্গে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহজ হবে না বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকেরা।
নির্বাচন প্রস্তুতি ও ভোটের বাস্তবতা
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, পাঁচটি আসনে মোট ভোটার ২০ লাখের বেশি। হাওরাঞ্চল হওয়ায় ৩২৩টি কেন্দ্রকে দুর্গম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোট গ্রহণে দায়িত্ব পালন করবেন ১৪ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী।
জামায়াত নেতারা বলছেন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিবিরোধী অবস্থানের কারণে তারা জনসমর্থন পাচ্ছেন। বিএনপি নেতাদের দাবি, শেষ পর্যন্ত পাঁচটি আসনেই তাদের প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে নীরব ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।





