মৌলভীবাজারে জামায়াত নেতার খামারে দুর্বৃত্তদের আগুন
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
মৌলভীবাজারে উসমান গণি নামে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার খামারে আগুন দিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। এতে খামারের প্রায় ১০টি গরু, ১০টি ভেড়া, শতাধিক হাঁস ও ২০টি মুরগী মারা গেছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কনকপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বুদ্ধিমন্তপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের ও মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার শবেবরাতের রাতে মানুষেরা যখন নামাজ ও ইবাদতে মগ্ন ছিলেন তখন কে বা কারা খামারে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে খামারে থাকা গরু, ভেড়া, হাঁস ও মুরগী পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুনে খামারে থাকা অনেক গরু আহত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৮-১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন খামারের মালিক কনকপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সম্পাদক উসমান গণি।
পরিকল্পিতভাবে খামারে আগুন দেওয়া হয়েছে দাবি করে খামারের ক্ষতিগ্রস্ত মালিক উসমান গণী বলেন, ‘পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমাকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে খামারে আগুন দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মইজান বিলের ডুবা নিয়ে স্থানীয় দুইজনের সাথে ঝামেলা হয়েছে। আমাদের জায়গার কাগজ পেয়েছি। তারা জোর করে আমার জায়গা দখল করতে যায়। এনিয়ে ঝামেলা হয় তাদের সাথে। আমরা নিরীহ মানুষ, আমাকে হত্যা করার জন্য খামারে আগুন দিয়েছে তারা। ভাগ্যক্রমে আমি নামাজে থাকায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছি। এসব বিষয় নিয়ে আমি আগে থানায় বলেছি। যারা এই কাজটি করেছে তারা আগে আ.লীগ করতো এখন বিএনপি করে।’
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে তাৎিক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এবং আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আগুনে পুড়ে উসমান গণির কয়েকটি গরু ও হাঁস-মুরগি মারা গেছে এবং কয়েকটি গরু আহত হয়েছে। তবে আগুন লাগার সাথে সাথে স্থানীয়রা গরুকে গোয়াল ঘর থেকে ছেড়ে দেওয়ায় খামারে থাকা গবাদি পশুকে বাঁচানো গেছে। ঘটনাটি আমরা আমরা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছি। এছাড়া খামারের মালিকের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।





