হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসককে মারধর
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাঈম আশরাফকে মারধরের ঘটনায় প্রায় দুই ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসাসেবা বন্ধ ছিল। এতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতসহ মুমূর্ষু ও গুরুতর অসুস্থ রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে সদর উপজেলার বনগাঁও গ্রামের তমাল নামের এক যুবক যিনি একজন রোগীর স্বজন জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক নাঈম আশরাফের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ওই যুবক চিকিৎসককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
ঘটনার পরপরই জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে সেবা প্রদান বন্ধ রাখেন। ফলে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ প্রায় দুই ঘণ্টা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
এই সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও গুরুতর অসুস্থ একাধিক রোগী জরুরি চিকিৎসা না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগ বন্ধ থাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত কয়েকজন রোগী ইমারজেন্সি ওয়ার্ডে পড়ে আছেন। তাদের কোন চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। যা নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে রাতের দিকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালু করা হয়।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আমিনুল হক সরকার বলেন, ঘটনার পর পুলিশকে বিষয়টি অবগত করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় চিকিৎসক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।





