ওসমানী বিমানবন্দরে বোর্ডিং পাস না পেয়ে ফিরছেন যুক্তরাজ্যগামী যাত্রীরা
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
ভিসা, এয়ার টিকিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার পরও বোর্ডিং পাস না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এ সমস্যার কারণে যুক্তরাজ্যগামী অন্তত অর্ধশতাধিক যাত্রী গতকাল বুধবার পর্যন্ত চেক-ইন কাউন্টার থেকেই ফিরে গেছেন। একই ধরনের ভোগান্তির খবর পাওয়া গেছে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, বোর্ডিং পাস ইস্যুর সময় এয়ারলাইন্সের কম্পিউটার স্ক্রিনে ‘চেক ইন রেস্ট্রিকটেড, কনট্যাক্ট ইউকে বর্ডার ফোর্স’ লেখা বার্তা দেখা যাচ্ছে। এরপর আর বোর্ডিং পাস দেওয়া হচ্ছে না। এতে অনেক প্রবাসী বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। কেউ কেউ পরিবার রেখে দেশে এসে আটকা পড়েছেন।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গত এক সপ্তাহ ধরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের চেক-ইনের সময় এ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে যুক্তরাজ্যগামী ফ্লাইটে যাত্রীদের উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে যাত্রীরা দাবি করছেন, তাঁদের ভিসা ও ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস সম্পূর্ণ বৈধ এবং অনেকের কাছেই যুক্তরাজ্যের ই-ভিসা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি বাংলাদেশের কোনো অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়। যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সিস্টেমজনিত জটিলতার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কাজ করছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে এ জটিলতার সম্পর্ক থাকতে পারে। দেশটি ধাপে ধাপে ফিজিক্যাল ভিসা ডকুমেন্ট বাতিল করে ই-ভিসা চালু করছে। অনেক প্রবাসী বিআরপি কার্ড থেকে ই-ভিসায় রূপান্তর করলেও নতুন পাসপোর্টের তথ্য ইউকেভিআই অ্যাকাউন্টে হালনাগাদ না করায় যাচাইয়ের সময় সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রী যাচাইয়ের জন্য ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন’ (আইএপিআই) সিস্টেম ব্যবহার করে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সার্ভার বা তথ্য সমন্বয়ের জটিলতায় অনেক সময় সিস্টেমে ভুল বার্তা দেখাতে পারে।
এ বিষয়ে সিলেটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের স্টেশন ম্যানেজার শাকিল আহমদ বলেন, যুক্তরাজ্যে যেতে হলে যাত্রীদের যাত্রার অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে ইউকেভিআইয়ের ওয়েবসাইটে পাসপোর্টের তথ্য আপডেট করতে হয়। অনেক যাত্রী এ বিষয়টি জানেন না। ফলে বিমানবন্দরে এসে বোর্ডিং পাস নেওয়ার সময় দেখা যায়, তাঁদের পাসপোর্টের তথ্য সিস্টেমে নেই।
তিনি জানান, ২৮ জানুয়ারি থেকে এ সমস্যা শুরু হয়েছে এবং যাঁরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তাঁরা সবাই লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরগামী যাত্রী।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমদ বলেন, এটি বিমানবন্দর বা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিজস্ব কোনো সমস্যা নয়। বিষয়টি যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধান করা হবে। আপাতত যাত্রীদের ব্রিটিশ হোম অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।





