সুনামগঞ্জ-৫ আসন : বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে শক্ত লড়াইয়ের আভাস
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র একদিন বাকি। প্রচারণার শেষ মুহুর্তে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে ভোটের হিসাব-নিকাশ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এ আসনে সুদক্ষ সাংগঠনিক তৎপরতায় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে শক্ত ভোটের লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে বিএনপির।
এ আসনে ভোটে লড়ছেন রয়েছেন ৫ জন দলীয় প্রার্থী। এখানে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াই হবে, এমনটাই ধারনা এই অঞ্চলের ভোটারদের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের সমীকরণে তুলনামূলক ভাবে বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও শেষ মুহূর্তে চমক দেখাতেই নীরবে কাজ করছে জামায়াতে।
ধানের শীষের প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি। তিনি এখানে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর অপর প্রভাবশালী বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী তৃণমূলের চাপে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন মিজান চৌধুরী।
দলীয় প্রার্থী মিলনের প্রচারণায় ছাতকে দুটি উপজেলা গঠনসহ এলাকার উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী সিলেট মহানগর জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য। শিক্ষাগুরু হিসেবে পরিচিত মাদানী ছাতক উপজেলার একটি অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত থাকায় দেশ-বিদেশে তাঁর অসংখ্য ছাত্র এবং শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে। শেষ মুহূর্তের ভোটার তালিকায় নারী ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হওয়ায় প্রচারণায় নারী ভোটারদের আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা।
বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, তিনি বিএনপির একজন কর্মী। ধানের শীষ ছাড়া কোনো অবস্থান নেই। এ আসনে ধানের শীষকে বিজয়ী করতেই কাজ করবেন।
বিএনপি প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, সুনামগঞ্জ-৫ বিএনপির ঘাঁটি। এখানে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। এই আসনে বিপুল ভোট পেয়ে বিজয়ী হবে দল।
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম তালুকদার বলেন, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে প্রচারণায় ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া মিলছে। বিএনপির কর্মীরা দিশেহারা হয়ে নারী কর্মীদের বাধা ও হুমকি দিয়েছে।
১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে দিনরাত প্রচার চালিয়েছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই গ্রাম-গঞ্জে মানুষের পাশে আছি। নির্বাচিত হলে নেতা নয়; সেবক হিসেবে কাজ করব। জামায়াত নেতারা দাবি করছেন, নারী ও তরুণ ভোটারদের বড় অংশ পরিবর্তনের পক্ষে এবং ইনসাফের রাজনীতিতে আগ্রহী।
এ আসনে বিএনপি-জামায়াত ছাড়া অন্যরা হলেন– খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আব্দুল কাদির, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আজিজুল হক।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৮ জন। দুটি উপজেলায় ২২টি ইউনিয়নের মোট ভোটকেন্দ্র ১৭০টি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা দলকে অনেকটাই সুসংগঠিত করেছেন। যে কারণে পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে নীরব ভোটের সমন্বিত প্রচারণা শেষ মুহূর্তে ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জ-৫ আসনে ভোটের লড়াই এখন দ্বিমুখী।




