শাল্লায় প্রতারণার অভিযোগে ইজারাকৃত জলমহাল দখলের চেষ্টা
শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় ছয় বছরের জন্য ইজারাকৃত একটি জলমহাল প্রতারণার মাধ্যমে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জলমহালের সঙ্গে যুক্ত ২৩টি মৎস্যজীবী পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের কাশিপুর লাইরাদিঘা গ্রুপ এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী দিরাই উপজেলার উত্তর জারুলিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড ২০১৯ সালে জলমহালটি ছয় বছরের জন্য ইজারা নেয়। ইজারার মেয়াদ বাংলা ১৪২৭ থেকে ১৪৩২ সাল পর্যন্ত।
ইজারার তিন বছর পার হওয়ার পর একটি চক্র সমিতির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া সাব-লিজ দলিল তৈরি করে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দেয় বলে দাবি করেছে সমিতি কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে আটগাঁও গ্রামের ডালাস রাজীব উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে আদালতে একটি মামলা করা হয়। পরে আদালত মামলাটি খারিজ করে উত্তর জারুলিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির পক্ষে রায় দেন।
সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ইজারা নেওয়ার পর নিয়মিত সরকারকে নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধ করা হচ্ছে। চলতি বছরই জলমহাল থেকে মাছ আহরণের শেষ সময়সীমা। এ সময়েই নতুন করে দখলের চেষ্টা শুরু হয়েছে।
এবার রুমেন মিয়া নামের আরেক ব্যক্তির মাধ্যমে নতুন একটি মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, সমিতির সভাপতি প্রজেশ লাল দাস ৭২ লাখ টাকার বিনিময়ে জলমহালটি সাব-লিজ দিয়েছেন। তবে সমিতির দাবি, সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে আদালতে ভুয়া চুক্তিনামা উপস্থাপন করা হয়েছে।
সমিতির সভাপতি প্রজেশ লাল দাস বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছ থেকে বৈধভাবে ছয় বছরের জন্য জলমহাল ইজারা নিয়েছি। নিয়মিত রাজস্ব দিচ্ছি এবং মাছ চাষ করছি। একটি অসাধু চক্র প্রতারণার মাধ্যমে জলমহালটি দখলের চেষ্টা করছে। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।’
মৎস্যজীবীরা অভিযোগ করে বলেন, বারবার মামলা ও প্রশাসনিক চাপের মাধ্যমে জলমহাল থেকে তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী রুমেন মিয়ার বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।





