হবিগঞ্জে নির্বাচনী কার্ড বঞ্চিত ২০০ সাংবাদিক, সংবাদকর্মীদের বিক্ষোভ
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ
হবিগঞ্জ জেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষণের জন্য আবেদন করেও প্রায় দুই শতাধিক সাংবাদিক নির্বাচনী কার্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসের সামনে সাংবাদিকরা বিক্ষোভও করেছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জের ৯টি উপজেলা ও সদর মিলিয়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক সাংবাদিক নির্বাচনী পর্যবেক্ষণের অনুমতির জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে মাত্র ২৬৯ জন সাংবাদিককে অনুমতিপত্র প্রদান করা হয়েছে। বাদ পড়েছেন ২৩১ জন, যাদের মধ্যে প্রায় ২০০ জনকে কোনো বিধিসম্মত বা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ সাংবাদিকদের। বাতিল হওয়া তালিকায় রয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— সমকাল, দৈনিক বাংলা, জনকণ্ঠ, অগ্রযাত্রা প্রতিদিন, কালবেলা, আমাদের সময়, দেশ রূপান্তর, বাংলাদেশ সমাচার, এশিয়ান টেলিভিশন, মাই টিভি, এনপিবিসহ একাধিক গণমাধ্যম। পাশাপাশি স্থানীয় পত্রিকা জননী, হবিগঞ্জের বানী, তরফ বার্তা,সময়সহ বিভিন্ন মাধ্যমের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা দলবদ্ধভাবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মঈনুল হকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান।
তবে অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং দায়সারা মনোভাব প্রদর্শন করেন। সাংবাদিকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ও একটি বিশেষ পক্ষকে সুবিধা দিতে পরিকল্পিতভাবে প্রকৃত সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা হচ্ছে। এতে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা থাকতে পারে বলেও তারা মনে করছেন। এমনকি ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। দৈনিক দেশ রূপান্তরের মাধবপুর প্রতিনিধি জালাল উদ্দিন লস্কর বলেন,“সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমাকে ও আমাদের পত্রিকার কার্ড বাতিল করা হয়েছে। এখানে স্পষ্ট বৈষম্য করা হচ্ছে।” দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের প্রতিনিধি ফোরকান উদ্দিন রোমান অভিযোগ করে বলেন,“ইদানীং জেলা প্রশাসনের আচরণ নতুন ধরনের ফ্যাসিবাদের চর্চা মনে হচ্ছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে অপমানজনক ব্যবহার করা হচ্ছে।” সাংবাদিকদের আরও অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে ভুঁইফোড় ও অনলাইনভিত্তিক ভুয়া পত্রিকার প্রতিনিধিরা কার্ড পেলেও দীর্ঘদিনের পেশাদার সাংবাদিকরা বঞ্চিত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও কার্ড না পাওয়ায় তারা হতবাক।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মঈনুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। অভিযোগের বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, “আবেদন অসম্পূর্ণ থাকায় কিছু আবেদন বাতিল করা হয়েছে। কারও অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জানাতে পারেন।” ভুয়া পত্রিকা ও ফেসবুক পেজের প্রতিনিধিদের কেন অনুমতি দেওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আবারও লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। প্রসঙ্গত,ওই রিটানিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধি বহির্ভূতভাবে মনোনয়ন দাখিলের পর এবি পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সাজন ও সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের প্রার্থিতা বাতিল করার অভিযোগ ওঠে। কোন কোন প্রার্থী ওই যেটা নিকটতায় পদত্যাগ দাবি করেন। পরিবর্তীতে আপিলের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে তাদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা হয়।





