শহর থেকে গ্রাম—সিলেটজুড়ে ভোট উৎসবের দৃশ্য
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৩২ অপরাহ্ণত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট বিভাগের ছয়টি সংসদীয় আসনে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচন উপলক্ষে কর্মজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।
শহর ও গ্রামজুড়ে এখন সাজ সাজ রব। ভোট প্রার্থনায় ‘মা-বোনদের দোয়া চাই’, ‘ভাই-ভাবিদের দোয়া চাই’—এমন স্লোগান সাধারণ আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে। কে জিতবেন, কারা রাষ্ট্রক্ষমতায় যাবেন এবং ভোটের পরিবেশ কেমন হবে—এসব বিষয় নিয়েও চলছে ব্যাপক আলোচনা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত সিলেটবাসী নিজ নিজ এলাকায় ফিরছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সিলেট-২ আসনের বিশ্বনাথ উপজেলার কারিকোনা গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুস ছামাদ ঢাকা থেকে পরিবারসহ ভোট দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, “১৬ বছর ভোট দিতে পারিনি। দিনের ভোট রাতে হয়েছে। এবার আর মিস করব না। সকালেই কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেব।”
সিলেট সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার নজরুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন পর সুন্দরভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি।”
একইভাবে খাদিমনগর ইউনিয়নের ভোটার আক্তার হোসেন ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাহবুব আলমও এবার শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সিলেট বিভাগে মোট ১৯টি সংসদীয় আসনে ১০৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিভাগে মোট ভোটার সংখ্যা ৭৮ লাখ ৫৫ হাজার ৮৩৩ জন। এর মধ্যে—
সিলেট জেলায় ২৭ লাখ ১৫ হাজার ৩৩১ জন
সুনামগঞ্জে ১৯ লাখ ২২ হাজার ১৬৯ জন
হবিগঞ্জে ১৭ লাখ ১ হাজার ৭৪৫ জন
মৌলভীবাজারে ১৫ লাখ ১৬ হাজার ৫৮৮ জন ভোটার রয়েছেন
সিলেট জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী রয়েছেন ৩৩ জন। জেলার ১,০১৬টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৯৮টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জেলার আওতায় রয়েছে ৭২২টি কেন্দ্র এবং সিলেট মহানগর এলাকায় রয়েছে ২৯৪টি কেন্দ্র। সিলেট মহানগর পুলিশের অধীনে সিলেট-১ আসনের পুরো এলাকা ও সিলেট-৩ আসনের আংশিক অংশ রয়েছে। বাকি অংশসহ অন্যান্য আসন সিলেট জেলা পুলিশের আওতায়।
প্রশাসনের আশাবাদ
সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, “এবার সিলেটে শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার-প্রচারণা সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আশা করছি নির্বাচনও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।”
সব মিলিয়ে দীর্ঘ সময় পর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশায় সিলেটে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। এখন ভোটারদের রায়েই নির্ধারিত হবে আগামী পাঁচ বছরের জনপ্রতিনিধিত্ব।





