মৌলভীবাজার-৪ আসনে ৫৫ বছর পর বিএনপির ঐতিহাসিক জয়
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে দীর্ঘ ৫৫ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে এই প্রথম বিজয় নিশান ওড়ালো বিএনপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব)।
স্থানীয় ভোটার ও বিশ্লেষকরা এই জয়কে ‘ভূমিধস’ ও ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে হাজী মুজিবই সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, পোস্টাল ভোটসহ ধানের শীষ প্রতীকে হাজী মুজিব পেয়েছেন মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা নূরে আলম হামিদী পেয়েছেন ৫০ হাজার ২০৪ ভোট। ফলে হাজী মুজিব ১ লাখ ২০ হাজার ৬৭৩ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে এই আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকার পেছনে সংখ্যালঘু এবং চা শ্রমিকদের ‘ভোটব্যাংক’ বড় ভূমিকা পালন করত। তবে এবারের নির্বাচনে সেই সমীকরণ বদলে গেছে। হাজী মুজিবের ২৬ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং তৃণমূলের মানুষের সাথে নিবিড় যোগাযোগ চা শ্রমিক, ২৬টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘু হিন্দু ভোটারদের মধ্যে তাকে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলে। এছাড়া গ্রামাঞ্চলের মুসলিম ভোটারদের বিশাল অংশও এবার ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন।
হাজী মুজিবের এই বিজয় সহজ ছিল না। ২০০১ সাল থেকে তিনি এই আসনে লড়াই করে আসছেন। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে তাকে শতাধিক মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং প্রায় চার বছর কারাবরণ করতে হয়েছে। এমনকি তার কারাবন্দী অবস্থায় ছোট ভাই শামীম আহমেদের মৃত্যু এবং ব্যবসায়িক ধসের মতো ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষের মনে তার প্রতি গভীর সহানুভূতির সৃষ্টি করে। বারবার পুলিশি অভিযানের মুখে ঈদের জামাত বা ইফতার মাহফিলে অংশ নিতে না পারার স্মৃতিগুলো ভোটারদের আবেগতাড়িত করেছে।
ভোটারদের মতে, বিএনপির ঘোষিত ৯ দফা নাগরিক সুবিধা, বিশেষ করে কৃষি উন্নয়ন ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির ব্যাপক প্রচার এবারের নির্বাচনে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। বিএনপির বিশাল কর্মীবাহিনীর সুসংগঠিত প্রচারণার ফলে সাধারণ ভোটাররা পরিবর্তনের আশায় ধানের শীষকে বেছে নিয়েছেন।
বেসরকারিভাবে বিজয়ী হওয়ার পর হাজী মুজিব বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর জনগণ আমাকে যে সম্মান দিয়েছে, তা চিরস্মরণীয়। মৌলভীবাজার-৪ আসনের মানুষের আস্থার মর্যাদা রক্ষা করাই হবে আমার প্রধান কাজ। এই এলাকার উন্নয়ন, শান্তি ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।”
উল্লেখ্য, এবার শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে গড় ভোট পড়েছে প্রায় ৫৫ শতাংশ। এই ঐতিহাসিক ফলাফল মৌলভীবাজারের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।




